
মজুরি বাড়ানর দাবিতে রোববার মিরপুর-১০ নম্বরে সড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকেরা। ছবি: সংগৃহীত
শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে রোববার ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও সাভার-আশুলিয়া এলাকার ৫২৯টি পোশাক কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ২ হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা। সেখানে ২৭৬টি কারখানার ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক কাজ বন্ধ করে চলে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়।
বিজিএমইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুটি এলাকায় মোট ৮৩৬টি পোশাক কারখানা রয়েছে।
সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি এলাকায় ১৮৫টি কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ২০৫ শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে যান। এই এলাকাগুলোতে মোট ৪৪১টি পোশাক কারখানা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকাধীন মিরপুরের ৬৮টি কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিক্ষোভে ৫১ হাজার ৬২৫ শ্রমিক তাদের কর্মস্থল ছেড়ে যান। এই এলাকায় মোট ৩২০টি পোশাক কারখানা রয়েছে।
তবে নারায়ণগঞ্জ এলাকার ১৯৭টি বা চট্টগ্রামের ৩৪০টি কারখানায় বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা এবং বরখাস্ত হওয়া শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই এসব তথ্য উঠে এসেছে।
শ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনার জন্য সরকার গতকাল ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং মহাসড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
পালাবদল/এসএ