
নরেন্দ্র মোদি, ভ্লাদিমির পুতিন, ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটে পাস হয়েছিল আগেই। এবার নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ‘প্রক্রিয়াগত অনুমোদন’ পেয়ে গেল রাশিয়া, ইরান এবং তাদের বাণিজ্যিক সহযোগীদের উপর বিধিনিষেধ জারির লক্ষ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনা বিল। এই বিল আইনে পরিণত হলে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবেন ট্রাম্প।
হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে বুধবার ‘লিন্ডসে ও.গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিলটির পক্ষে ২১৪টি ভোট পড়েছে। বিপক্ষে ২১১টি। বিলের খসড়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার পরিধি অগণতান্ত্রিকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দুই ডেমোক্র্যাট হাউস সদস্য ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান শিবিরের সঙ্গে শামিল হয়ে ‘প্রক্রিয়াগত ভোটাভুটি’ পর্বে বিলটিকে সমর্থন করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স একটি সংশোধনী এনেছেন। যাতে প্রেসিডেন্টকে অন্য দেশের উপর ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ চাপানোর ক্ষমতা দেওয়া বিলের ১১৩ নম্বর ধারা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর (যার মধ্যে ভারতও রয়েছে) ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেলে ট্রাম্প যে বেইজিং এবং নয়াদিল্লিকে বিশেষ ভাবে নিশানা করবেন, তারও ইঙ্গিত মিলেছে বুধবার। কারণ, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিলের সঙ্গে পেশ করা সরকারি সংশোধনী প্রস্তাবে ভারত ও চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সিঙ্গাপুর, কাজাগস্তান ও কিরগিজস্তানের মতো দেশগুলোও এই সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত রয়েছে সংশোধনী প্রস্তাবে। গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে এই বিলটি ৮৬–১১ ভোটে পাস হয়েছিল, তবে সেখানে সরাসরি কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করে রাশিয়ার তেল আমদানিকারক শীর্ষ পাঁচটি দেশের কথা বলা হয়েছিল। হাউস সংস্করণে ভারত-সহ নির্দিষ্ট দেশগুলির নাম যুক্ত হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে নয়াদিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে ব্রিক্স শীর্ষ বৈঠকের পরেই নতুন করে মস্কোবিরোধী তৎপরতা শুরু হলো ওয়াশিংটনে। পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে রাশিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে চীন। তালিকায় দ্বিতীয় ভারত। এ ছাড়া ক্রেতার তালিকায় উপরের সারিতে রয়েছে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, জাপানের মতো দেশ। আমেরিকায় আইন পাস হওয়ার পর এই দেশগুলি যদি রুশ তেল কেনা বন্ধ না-করে, চাইলেই তাদের উপর ইচ্ছামতো শুল্ক চাপাতে পারবেন ট্রাম্প।
কিছু দিন আগে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আমেরিকার ওই বিলের দিকে নজর রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনাও চলছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানির চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা হবে। আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার পরে ৯ নভেম্বর ফের কংগ্রেসের অধিবেশন বসবে। সেখানেই চূড়ান্ত দফার ভোটাভুটিতে ‘লিন্ডসে ও.গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’-এর চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তার পরেই নয়াদিল্লির তরফে পদক্ষেপ করা হতে পারে কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
পালাবদল/এসএ