
প্রতীকী ছবি
বাল্টিক সাগরে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ পর্যবেক্ষণের সময় ডেনমার্কের একটি সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে দুটি জরুরি সতর্কতামূলক ফ্লেয়ার বা আতশবাজি সদৃশ বস্তু ছোড়ার অভিযোগ করেছে ডেনমার্ক।
সোমবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি রুশ ফ্রিগেট বা যুদ্ধজাহাজের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এরপর রুশ রাষ্ট্রদূতকেও তলব করেছে ডেনমার্কের সরকার।
ডেনমার্কের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, তাদের বিমানবাহিনীর একটি ফেনেক হেলিকপ্টার রুশ ফ্রিগেটটির ছবি তোলার সময় ফ্লেয়ারের লক্ষ্যবস্তু হয়। দুটি ফ্লেয়ারের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারটির খুব কাছ দিয়ে যায়।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন রাশিয়ার এ কর্মকাণ্ডকে ‘বেপরোয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য ছিল ‘ভয় দেখানো ও বিভক্তি তৈরি করা’।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লাক্কে রাসমুসেনও ঘটনাটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন।
রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিন বিবিসিকে বলেন, মস্কো ঘটনার সব পরিস্থিতি ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত’ করবে। তবে তিনি ডেনমার্কের হেলিকপ্টারের বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ করেছেন।
বারবিনের দাবি, রুশ যুদ্ধজাহাজের কাছে ডেনমার্কের বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের বিপজ্জনকভাবে চলাচলের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত বছরও একই ধরনের একটি ঘটনার বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন।
তিনি বলেন, যোগাযোগের সমস্যা রুশ নৌবাহিনীর নয়, বরং ডেনমার্কেরই।
এদিকে ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেপ্পে ব্রুস রয়টার্সকে বলেন, ফ্রিগেটটির ক্রুরা হেলিকপ্টারের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো চেষ্টা করেনি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়ার আচরণকে ‘বেপরোয়া ও বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাসহ এটি ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন ও উসকানির বৃহত্তর ধারার অংশ।
বিবিসি জানায়, একই দিনে ন্যাটো বাহিনী লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
আজ মঙ্গলবার প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে ড্রোনটি লিথুয়ানিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ঢোকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাসের কাছ দিয়ে এটি প্রবেশ করে।
ড্রোনটির উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট গিতানাস নওসেদা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার বাড়তে থাকা আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়া আগ্রাসন বাড়ানোয় এ অঞ্চলের জন্য এমন প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে লিথুয়ানিয়া তাদের আকাশসীমা রক্ষা করবে।
লিথুয়ানিয়ার দক্ষিণ ও পূর্ব সীমান্তের বড় অংশই রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে।
এদিকে সোমবার রাতে পোল্যান্ডও তাদের আকাশসীমায় ‘বিমান চলাচল কার্যক্রম’ পরিচালনার কথা জানিয়েছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ডে হামলা চালানো রুশ জেটচালিত ড্রোনের তৎপরতার কারণে ওই কার্যক্রম চালানো হয় বলে জানায় দেশটি।
পোল্যান্ড বলেছে, রাতভর ধরে চলা ওই কার্যক্রম ছিল ‘প্রতিরোধমূলক’ এবং এর লক্ষ্য ছিল আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর কাছাকাছি অংশে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ার আকাশসীমায় ইউক্রেনীয় ড্রোন ঢুকে পড়ে। এ কারণে কয়েকবার ড্রোন ভূপাতিত করতে আকাশে উড়েছে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান।
পালাবদল/এসএ