শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
বিদেশ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আনার আরও একটি পথ বন্ধ, বেঁচে রইল শুধু সুয়েজ খাল





পালাবদল ডেস্ক
Saturday, 12 September, 2026
9:25 PM
 @palabadalnet

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের মোখা বন্দরের দখল নিয়েছিল ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। শুক্রবার পেরিম দ্বীপও তাদের দখলে চলে গিয়েছে। লোহিত সাগরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হুতি বিদ্রোহীরা কব্জা করে নেওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহের সঙ্কট আরও গভীর হলো।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আসার গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত বন্ধ। ইরানের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। সে দেশ থেকে তেলবাহী জাহাজ যাতে অন্যত্র যেতে না-পারে, সে জন্য হরমুজ প্রণালীর মুখে অবরোধ তৈরি করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। ইরানও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সৌদি আরব, কাতার বা ইরাকের মতো দেশ থেকে তেল নিয়ে যাওয়া জাহাজের উপরে হামলার হুমকি দিয়েছে। বাস্তবে করেছেও।

এই অবস্থায় বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালী। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই এই পথে তেল রফতানি করে সৌদি আরব। তবে হরমুজের মতো অতটা নয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথবাহিনী ইরান আক্রমণ করার আগে বিশ্বের মোট তেলের চাহিদার পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমু‌জ দিয়েই যেতো।

সৌদি আরবের পুব দিকের খনিগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল পশ্চিমে লোহিত সাগরের তীরে আনার জন্য পাইপলাইন আছে। ইয়ানবু আর রাঘিব-মূলত এই দু’টি শহরে তেল যায়। সেখান থেকে জাহাজে তেল পরিবহণের প্রধান পথ বাব আল-মান্দেব। এক মাস আগে থেকেই এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দিয়ে রেখেছে হুথিরা। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের একটা বড় অংশই হুথি বিদ্রোহীদের দখলে। সেখান থেকে বাব আল-মান্দাব-মুখী বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। ভারতের পতাকা নিয়ে চলাচল করা একটি জাহাজেও আক্রমণ হয়েছে। কোনও মতে প্রাণে বেঁচেছেন ১৩ জন ভারতীয় নাবিক। এবার পর পর দু’দিনে লোহিত সাগরের তীরের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল নেওয়ায় বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ আরও অনেকটাই চলে গেল হুথিদের হাতে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটা পেরিম দ্বীপের কাছে। জলপথটি এখানে মাত্র কুড়ি কিলোমিটারের মতো চওড়া। আর পেরিম দ্বীপ থেকে জাহাজ চলাচলের পথের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটারেরও কম। ফলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন এড়িয়ে এই পথে জাহাজ নিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে গেল।

ইয়েমেনের সরকারের সঙ্গে হুথিদের সংঘর্ষের ইতিহাস দীর্ঘ। ইয়েমেনের শাসক দল সুন্নি মুসলিম। সুন্নি সৌদি আরব তাদের মদত দেয়। অন্য দিকে, শিয়া হুথি গোষ্ঠীকে মদত জোগায় ইরানের শিয়া শাসককুল। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর লড়াইয়ে একাধিক বার সরাসরি শামিল হয়েছে সৌদি আরব। তার পরেও রাজধানী সানা-সহ পশ্চিম ইয়েমেনের বড় অংশ হুথিদের দখলে। বিস্তার ঘটছে আরও।

শুধু মোখা বন্দর বা পেরিম দ্বীপ কব্জা করা নয়, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেলবাহী পাইপের উপরেও বৃহস্পতিবার একাধিক হামলা চালিয়েছে হুথিরা। উপগ্রহচিত্রে পাইপলাইন লাগোয়া প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। শুক্রবার থেকে ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে তেল পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরবের সরকার। বন্দরে তেলই যদি না-আসে, তা হলে জাহাজে করে কী-ই বা রফতানি হবে!

বিকল্প একটা পাইপলাইন দিয়ে মিশরে সুয়েজ খালের কাছাকাছি তেল পাঠানো অবশ্য এখনও সম্ভব। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগর হয়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশকে পরিক্রমা করে উত্তমাশা অন্তরীপের পাশ দিয়ে আসতে হবে ভারত মহাসাগরে। সব মিলিয়ে বাড়তি সময় লাগবে ১০ থেকে ১৫ দিন। যার অর্থ পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়া।

অন্য সমস্যাও আছে। সুয়েজ খালের নাব্যতা কম। জাহাজ বেশি ভারী হলে এখান দিয়ে পারাপার করতে পারে না। হরমুজ বা বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে বড় তেলবাহী জাহাজে (সুপার ট্যাঙ্কার) যতটা তেল নিয়ে আসতে পারে, সুয়েজ দিয়ে আনতে পারে তার বেশ খানিকটা কম। একে ঘুরপথ, তায় কম তেল-খরচ অনেকটাই বেশি। কিন্তু হরমুজের পরে বাব আল-মান্দেবও কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আনার এই একটি পথই বেঁচে রইল। আর সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় তেলের দামও বেড়ে গেছে।

পালাবদল/এমএম


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]