শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
রাজনীতি
বক্তব্য ‘টুইস্ট’ করা হলেও আমরা মিডিয়ার ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল: জামায়াত আমির





বগুড়া ব্যুরো
Saturday, 12 September, 2026
8:41 PM
 @palabadalnet

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির  ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

দেশপ্রেমের জায়গা থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বিরোধীদলের নেতৃত্বে ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা পেলেও কখনো কখনো ভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে একটু উল্টাপাল্টা দুএকজন করেন। সেসব ভুলে যান। টুইস্টিং করা হয় আমাদের বক্তব্যকে। হয় মাথা কাটা, না-হয় পা কাটা, মাঝখান থেকে পেট উঠিয়ে দেওয়া হয়। (বক্তব্যের) পুরো অর্থ পাল্টে যায়। আমরা এটা বিশ্বাস করতে চাই না, যে সাংবাদিক বন্ধু এই কাজটা করেছেন, তিনি কিছু না বুঝেই করেছেন।”

“হয়তো তার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে। তারপরেও দেখবেন আমরা মিডিয়ার ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল। কখনো মিডিয়াকে আঘাত করে আমরা কথা বলি না,” যোগ করেন তিনি।

আজ শনিবার সকালে বগুড়া সার্কিট হাউস হলরুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, “তিনটি (বিভাগ) সংবিধান স্বীকৃত, আইন, বিচার ও নির্বাহী। আর চতুর্থটা সংবিধানে নেই-সংবাদমাধ্যম, কিন্তু এটি সবচেয়ে শক্তিশালী। এটা যদি শক্ত থাকে, স্বচ্ছ থাকে, সততার ওপর থাকে, তাহলে বাকি তিনটা কান খাড়া করে চলতে বাধ্য। আর এই জায়গায় যদি কোনো সমঝোতা হয়, অথবা তার কোনো বিচ্যুতি ঘটে, গোটা জাতি বিচ্যুত হবে।”

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা সবাই এ দেশকে ভালোবাসি। এই ভালোবাসার জায়গা থেকে আসুন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি দেশ দিয়ে যাই, যেখানে একজন নাগরিকের তিনটি মৌলিক চাওয়া পূরণ হবে।

ব্যাখ্যা করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রত্যেক নাগরিকই চান তার ন্যূনতম তিনটি জিনিস থাকবে-নিরাপত্তা; নিরাপত্তা আবার তিন জিনিসের, জীবন, সম্পদ ও সম্মানের। দ্বিতীয়টি হচ্ছে তার স্বাধীনতা, আর তৃতীয় জিনিসটি হচ্ছে তিনি একজন বাংলাদেশি হিসেবে দেশে কিংবা প্রবাসে-যেখানেই থাকুন না কেন, গর্বের সঙ্গে পরিচয় দেবেন যে, আমি এই দেশের নাগরিক।

“বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আমরা ৫৫ বছর অতিক্রম করে এসেছি। একটি জাতির জন্য এই সময়টা নেহায়েত ছোট নয়,” যোগ করেন তিনি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ১১-দলীয় ঐক্যের চলমান কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জানি, এই সরকার গঠন হওয়ার পর পরই মধ্যপ্রাচ্যে একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যার কারণে সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু এক এক করে ছয় মাস চলে গেছে। এটা একটা জাতির ইতিহাসে এটি ছোট্ট সময় নয়। অবশ্যই আমাদের সরকারের এই সময়ের ভেতরে বিকল্প বের করা দরকার ছিল।

বিরোধীদল বারবার সহযোগিতা করতে চাইলেও সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেনি, বরং সংকট অস্বীকার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে যখন দেখলাম যে, সংসদের ভেতরে আমরা কিছু করতে পারছি না, তখন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; বৈষম্য দূরীকরণ; বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ; চাঁদাবাজি-দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা; দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ছয়টি দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। ইতোমধ্যে আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে আমরা লংমার্চ শুরু করেছি।

সংকটকালে লংমার্চ নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “এখন সরকারও বলছে তেলের ক্রাইসিস, প্রথমে স্বীকার করেনি। এই গাড়িগুলা যদি আমরা নাও নিতাম, সেই ব্যক্তিরা গাড়িগুলা বসিয়ে রাখতো? তাদের প্রয়োজনে এই গাড়িগুলা চলতো।”

বিরোধীদলের প্রতিটি দাবি জনগণের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেই দাবিতে তারা স্যাক্রিফাইস করেছে। আমরা চাইলে কয়েক হাজার গাড়ি নিয়ে রওনা করতে পারতাম। আমরা তা করিনি। আমরা প্রতীকী একটি কাফেলা নিয়ে রওনা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব জনগণের অধিকারের পাহারাদারি করা, চৌকিদারি করা।

“বিরোধীদলের হাতে কখনো স্বৈরশাসন কায়েম হয় না, কারণ তারা তো শাসক না! তো স্বৈরশাসন করবে কীভাবে,” প্রশ্ন রাখেন শফিকুর রহমান।

জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তন আনতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পাশাপাশি বিরোধীদল দাবি তোলার আগেই বগুড়ার উন্নয়নে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। জামায়াত আমির বলেন, “বগুড়াকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের নাভি। সাতদিকে সাতটা সংযোগ সড়ক, এই জন্য সাত মাথা। এখান থেকে সারা উত্তরবঙ্গকে কানেক্ট করা হয়।”

“স্বাধীনতার আগে এটি একটি মিনি শিল্পনগরী এবং শিক্ষার হাব ছিল। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে শিল্প তো এখন নেই বললেই চলে! শিক্ষায় অন্যান্য জায়গাগুলো এগিয়ে গেলেও একমাত্র একটা মেডিকেল কলেজ হওয়া ছাড়া এখানে বড় কোনো উন্নয়ন হয়নি,” যোগ করেন তিনি।

পালাবদল/এমএম


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]