বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
স্পোর্টস
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য দায়ী আসিফ নজরুল ও অন্তর্বর্তী সরকার: তদন্ত কমিট





ক্রীড়া প্রতিবেদক
Wednesday, 16 September, 2026
12:42 AM
 @palabadalnet

আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি

আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে হওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার পেছনে দায়ী তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও সেই সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিশ্বকাপে না যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর এই তথ্য জানিয়েছেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত মে মাসে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ. কে. এম অলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তারা তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার। এই কমিটির বাকি দুই সদস্য ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ক্রীড়া সংগঠক ফয়সাল এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

শুরুতে কারও নাম নিতে না চাইলেও এনএনসির সম্মেলন কক্ষে সংবাদমাধ্যমের একের পর এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, “তদন্তে যা উঠে এসেছে... সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়-যে মানুষটি দায়ী (বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য), তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।”

২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পেছনে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা, আইসিসির ভেন্যু পরিবর্তন না করার অনড় মনোভাব এবং সরকারি হস্তক্ষেপের প্রভাব ‘খুবই বেশি’ ছিল উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, দর-কষাকষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ব্যর্থতাকে ‘উচ্চ’ এবং যোগাযোগের ঘাটতিকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে আরও ফুটে উঠেছে, বিশ্বকাপে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নিয়েছিলেন, তাতে সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিল বোর্ড।

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল এই কমিটির। তাদের মূল্যায়ন-পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়েছেন দেশের খেলোয়াড় ও ক্রিকেটপ্রেমী দর্শকরা।

তদন্ত কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে ফয়সাল আরও বলেন, “বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।”

ক্রিকেটকে রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে দূরে রাখা, বিসিবির স্বায়ত্তশাসন জোরদার করা, সংকটকালীন যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং একটি জাতীয় ক্রীড়া কূটনীতি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির সুপারিশ করেছে এই কমিটি।

এর আগে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিবি। এর ফলে ২০ দল নিয়ে আয়োজিত সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। এরপর গত মার্চে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ঘোষণা দিয়েছিলেন, কোন পরিস্থিতিতে কী কারণে বাংলাদেশ দল অংশ নেয়নি, তা জানতে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে।

খেলোয়াড়রা খেলতে আগ্রহী থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগের মুখে বিসিবির বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

এই জটিলতার শুরু হয়েছিল গত ৩ জানুয়ারি। সেদিন ভারত ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেয়। এরপর ক্রমাগত আলোচনা চললেও আইসিসি বা বিসিবি-কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি। শেষ পর্যন্ত এই অচলাবস্থার বলি হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয় বাংলাদেশ দলকে।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]