বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
সাইটেক
এআই নিয়ে বিশ্ব এখন দুই দলে বিভক্ত, গতি কমানোর আহ্বানেও থামছে না দৌড়





Wednesday, 16 September, 2026
12:37 AM
 @palabadalnet

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক ক্রমেই দুই বিপরীত দলে ভাগ হয়ে পড়ছে। এক পক্ষ মনে করছে, প্রযুক্তিটির দ্রুত অগ্রগতি মানবসভ্যতার জন্য অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি করছে। অন্য পক্ষ সতর্ক করছে, নিয়ন্ত্রণহীন এআই সমাজ, অর্থনীতি এমনকি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এএফপি বলছে, এর মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ। তারা এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায়, আবার সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও স্বীকার করছে। কিন্তু বিপুল বিনিয়োগ ও তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে এই ভারসাম্য ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এআই এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ভিত্তি হয়ে উঠেছে। এর উন্নয়ন ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, ব্যবসা ও এমনকি ভূরাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যও বদলে দিতে পারে। ফলে এআইয়ের গতি কমানোর প্রশ্নটি এখন শুধু প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সতর্কতাবাদীদের শঙ্কা

এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। প্রযুক্তির অপ্রত্যাশিত পরিণতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের একটি অংশ।

ওপেনএআই প্রতিষ্ঠার পেছনেও এমন উদ্বেগ কাজ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম দিকের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থাকা ইলন মাস্কসহ সমর্থকদের আশঙ্কা ছিল, এআইয়ের মতো শক্তিশালী প্রযুক্তি এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যেতে পারে, যাকে তারা যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না।

বর্তমানে এআই নিয়ে সবচেয়ে জোরালো সতর্কতাকারীদের অনেকে আবার প্রযুক্তি শিল্পের ভেতর থেকেই উঠে এসেছেন। তাদের মধ্যে অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোদেই অন্যতম।

অ্যামোদেই ওপেনএআই ছেড়ে অ্যানথ্রপিক প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হন। তার অবস্থান ছিল, এআইয়ের সম্ভাব্য শক্তি ও ঝুঁকি নিয়ে ওপেনএআই যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে এগোচ্ছে না।

তবে সমালোচকরা তার অবস্থানকে দ্বিমুখী বলেও আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা অ্যানথ্রপিক নিজেও অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি তৈরি ও বাজারজাত করার প্রতিযোগিতায় সামনের সারিতে রয়েছে।

এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতার সবচেয়ে পরিচিত দুই নাম সাবেক গুগল গবেষক জিওফ্রে হিন্টন ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী ইয়োশুয়া বেঙ্গিও। ২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি প্রকাশের পর এআই নিয়ে বিশ্বব্যাপী উন্মাদনা শুরু হলে তারা এর সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে প্রকাশ্যে সতর্কতা জোরদার করেন।

এমআইটির পদার্থবিদ ম্যাক্স টেগমার্কও এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তার নেতৃত্বাধীন ফিউচার অব লাইফ ইনস্টিটিউট ২০২৩ সালে সবচেয়ে উন্নত এআই সিস্টেমের উন্নয়ন ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে।

চিঠিটিতে হাজারো ব্যক্তি সই করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মাস্কও।

প্রযুক্তি শিল্পের বাইরে আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এলিয়েজার ইউদকোস্কি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তি দিয়ে আসছেন, অত্যন্ত শক্তিশালী কোনো এআই যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

উন্নয়নের ঘোড়া লাগামহীন ছুটছে

অন্যদিকে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর ধারণার সরাসরি বিরোধিতা করছেন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সমর্থকরা। তাদের অনেকেই মনে করেন, এআই বিপ্লব থামানো সম্ভব নয় এবং এর সুফল পেতে হলে উন্নয়নের গতি বজায় রাখতে হবে।

সিলিকন ভ্যালিতে এই দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক অ্যান্ড্রিসেন, হোয়াইট হাউসের সাবেক এআই কর্মকর্তা ডেভিড স্যাকস এবং ওয়াই কম্বিনেটরের প্রধান গ্যারি ট্যান এ অবস্থানের সবচেয়ে দৃশ্যমান সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন।

তারা এআই খাতে অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের যুক্তি, কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধের ব্যয় ছোট স্টার্টআপগুলোর পক্ষে বহন করা কঠিন হবে। এতে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য আরও বাড়তে পারে এবং নতুন উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এই পক্ষের সমালোচকরা অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করেন, এআই কোম্পানিগুলো নিয়ন্ত্রণ ঠেকানোর জন্য ‘নিরাপত্তা’ বিতর্ককে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।

এআই চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংও দ্রুত উন্নয়নের পক্ষে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন। এআই মডেল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতার অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হলো তার প্রতিষ্ঠান।

ফলে এআইয়ের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে এনভিডিয়ার ব্যবসারও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তার এরইমধ্যে বিদ্যুৎ, পানি ও অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতার মুখেও পড়ছে।

এদিকে টুরিং পুরস্কারজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ইয়ান লেকুন দীর্ঘদিন ধরে এআইয়ের অস্তিত্বগত বিপদের বিষয়ে হিন্টন ও বেঙ্গিওর সতর্কতাকে অতিরঞ্জিত বলে সমালোচনা করে আসছেন।

প্রযুক্তি জায়ান্টরা মাঝামাঝি অবস্থানে

বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাধারণত এই দুই চরম অবস্থানের মাঝামাঝি থাকার চেষ্টা করছে। তাদের কেউই এআইয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি অস্বীকার করতে চায় না, আবার উন্নয়নের দৌড় থেকেও বেরিয়ে আসতে চায় না।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় ওপেনএআই এমনভাবে গঠিত হয়েছিল, যাতে বিনিয়োগকারীদের বদলে গবেষকরাই প্রযুক্তিটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মানবজাতির নিরাপত্তাকে তখন প্রতিষ্ঠানের মূল দর্শনের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

কিন্তু স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান সময়ের সঙ্গে জটিল হয়েছে। ২০২৩ সালে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতের পর অল্প সময়ের জন্য তার পদচ্যুতি এবং পরে প্রত্যাবর্তন এ বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে।

বর্তমানে ওপেনএআই একদিকে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলছে, অন্যদিকে আরও শক্তিশালী মডেল তৈরি ও বাজারে আনার প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।

গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভারসাম্য দেখা যায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি ওয়াশিংটনে এমন নীতির পক্ষে কাজ করেছে, যাতে অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ এড়ানো যায়।

এআইয়ের ক্ষেত্রেও তারা একই ধরনের সূক্ষ্ম অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

উন্নয়নের গতি কেন কমানোর কথা উঠছে?

অ্যামোদেইয়ের সাম্প্রতিক আহ্বানের পেছনে এআই সিস্টেমের আচরণ নিয়ে নতুন কিছু উদ্বেগ কাজ করছে।

অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এমন কয়েকটি ঘটনার কথা জানিয়েছে, যেখানে এআই সিস্টেম নিজেদের নির্ধারিত পরিবেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কিছু সিস্টেম ইন্টারনেটে প্রবেশ করে ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আক্রমণের চেষ্টা করেছে বলেও প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে।

এসব পরীক্ষায় এআই সিস্টেমগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা, নিজেদের মধ্যে ভূমিকা বা শ্রেণিবিন্যাস তৈরি, প্রতারণামূলক আচরণ এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মুছে ফেলার মতো সক্ষমতা দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে।

অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সনও প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে ওপেনএআইয়ে কাজ করা কক্সন দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

কেউ একা থামতে চাইছে না

এআই উন্নয়নের গতি কমানোর সবচেয়ে বড় বাধা সম্ভবত এখানেই। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান যদি একতরফাভাবে উন্নয়ন ধীর করে, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা সেই সুযোগে এগিয়ে যেতে পারে।

এআই শিল্পে ইতোমধ্যে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। আরও বিপুল অর্থ বিনিয়োগের পথে রয়েছে। ফলে কোম্পানিগুলোর জন্য কয়েক মাসের প্রযুক্তিগত ব্যবধানও বড় ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অ্যামোদেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে গতি কমানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে তিনি চীনকে এই সমন্বয়ের বাইরে রাখার পক্ষে।

অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই ও গুগলের কাছে এ ধরনের সমন্বয় নিয়ে জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এখন পর্যন্ত অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই যে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে স্বাধীন পর্যবেক্ষক যুক্ত করা। এসব পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কাজ যাচাই করবেন।

‘নিরাপত্তা’ নাকি ব্যবসায়িক কৌশল?

অ্যামোদেইয়ের আহ্বানকে প্রযুক্তি শিল্পের একটি বড় অংশ স্বাগত জানালেও সবাই এতে সন্তুষ্ট নয়।

কিছু প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মনে করছেন, অ্যানথ্রপিকের সম্ভাব্য আইপিওর আগে এ ধরনের অবস্থান প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির কৌশল হতে পারে।

উদ্যোক্তা ব্রায়ান রোমেলি এমন মন্তব্যকারীদের একজন। তার মতে, অ্যানথ্রপিক নিজেদের এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যারা এআই নিরাপত্তায় অন্যদের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল।

হোয়াইট হাউসের সাবেক এআই উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকসও এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার যুক্তি, এআই ব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের সাইবার হামলা বা ক্ষয়ক্ষতি হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ব্যাপক পণ্য-দায় সংক্রান্ত মামলার মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান

এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানের পথে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থানও বড় বাধা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিল্পটির শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কতাকে ‘নেতিবাচক শক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রিপাবলিকানও এআই নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, কঠোর বিধিনিষেধ উদ্ভাবনকে ধীর করে দিতে পারে এবং চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিতে পারে।

অ্যামোদেই অবশ্য সরকারি তদারকির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের তৈরি নিয়ম যথেষ্ট হবে না।

মাথাব্যথার কারণ চীন

এআই উন্নয়নের গতি কমানোর যেকোনো উদ্যোগের সামনে সবচেয়ে জটিল প্রশ্নগুলোর একটি হলো চীন।

চীন দ্রুত এআই সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে।

অ্যামোদেই তাই গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কথা বলছেন, যেখানে চীনকে রাখা হবে না।

তবে তিনিও স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই প্রতিযোগিতাই প্রযুক্তিটির গতি কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন দ্বিধা তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ভিন্ন পথে হাঁটছে। চীন উন্মুক্ত বা ‘ওপেন’ এআই মডেলের বিকাশে উৎসাহ দিচ্ছে। এসব মডেল ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত নিয়ন্ত্রিত বা ‘ক্লোজড’ মডেল তৈরি করছে।

উন্মুক্ত মডেল সহজে পরিবর্তন করা যায় বলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। ফলে এগুলোর অপব্যবহারের আশঙ্কাও বেশি।

দৌড় থামবে কি?

অ্যামোদেই উন্নত এআই চিপ চীনে রপ্তানির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং চীনা গবেষণাগারে পশ্চিমা প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছেন।

কিন্তু এআই নিয়ে বর্তমান দ্বন্দ্বে শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবসা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বৈশ্বিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতা।

ফলে এআই নিয়ে বিশ্ব এখন মূলত তিনটি অবস্থানে বিভক্ত, একদল সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কায় গতি কমাতে চাইছে, আরেক দল দ্রুততম গতিতে প্রযুক্তির বিকাশ চায়, আর বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ ঝুঁকি সামলে উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চাইছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তাই রয়ে গেছে, যদি প্রতিদ্বন্দ্বীরা থামতে রাজি না হয়, তাহলে কে প্রথমে এআই উন্নয়নের গতিতে ব্রেক চাপবে?

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]