রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
রাজনীতি
রংপুর অভিমুখে লংমার্চে পাঁচ জেলায় পাঁচ পথসভা করবে ১১ দলীয় ঐক্য





নিজস্ব প্রতিবেদক
Sunday, 13 September, 2026
5:06 PM
 @palabadalnet

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে পথসভা করার ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ছবি: সংগৃহীত

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে পথসভা করার ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ছবি: সংগৃহীত

৭ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। এ দিন রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সভা ও রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশ ছাড়াও পাঁচ জেলায় পাঁচটি পথসভা করবে বিরোধী দল।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

১১ দলীয় ঐক্য ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করবে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে। এই উদ্বোধনী সভা চলবে সকাল আটটা পর্যন্ত। এরপর পথে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। এরপর রংপুর জিলা স্কুলে হবে সমাপনী সমাবেশ।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। আগের ছয় দফার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদে ১১ দলীয় ঐক্য জনস্বার্থ ও জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলছে। আইনশৃঙ্খলা, দেশের নিরাপত্তা, মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভূমিকা রেখেছে বিরোধী দল।

সংসদে বিরোধী দল সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য হওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সোচ্চার ছিল বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, তেল-গ্যাসের সংকট নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার কোনো সমাধান দিতে পারেনি। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে একটি টাস্কফোর্স বা কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে বলা হয়েছিল। কমিটি গঠনের পর বিরোধী দল ১০টি প্রস্তাব দিয়েছিল। সরকার এগুলো আমলে নেয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় এলে দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু সরকার তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস-সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বস্ত্রশিল্পের অর্ডার বাতিল হয়ে সেটি পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। কিন্তু এসব সংকট নিরসনে সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।

বিগত সরকারের ওপর দায় দিলেও বর্তমান সরকারের ছয় মাসে সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ ছিল, সে প্রশ্ন রাখেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেননি। গ্যাসের পাশাপাশি এখন সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। এ সংকট থাকলে দেশে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। এ জন্য পুরো দেশকে ভোগান্তি পোহাতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে উল্লেখ করে আযাদ বলেন, একটার পর একটা রোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে। গুম-খুন হচ্ছে। খুলনার মিরাজ শেখের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলের পাঁচজন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিরোধী দল সংসদে আলোচনা করেছে, রাজপথেও ভূমিকা রাখছে।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক ঐকমত্য দরকার। সবাই মিলে এগিয়ে এসে সমস্যার সমাধান করা দরকার। কিন্তু সংকট নিরসনে বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাব সরকার আমলে নিচ্ছে না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পালাবদল/এমএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]