
সৌদি আরবের জিজানে একটি তেল স্থাপনা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। ২৬ জুলাই ২০২৬। ফাইল ছবি: রয়টার্স
সৌদি আরবের জিজান শহরে অবস্থিত দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় সোমবার নতুন করে হামলা হয়েছে। গত মাসে একই রিফাইনারিতে আরেকটি হামলায় উৎপাদন কার্যক্রমের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনার এক মাসের কম সময়ের মধ্যে এ হামলা হলো।
আজ নতুন হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে জানেন এমন দুজন ব্যক্তি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, আজ সৌদি আরামকোর তেল অবকাঠামোয় হামলা হয়েছে। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাদের একজন বলেছেন, এবারের হামলার মাত্রা গত মাসের হামলার কাছাকাছি।
সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
জিজান সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তের সবচেয়ে কাছের শিল্পনগরী। অতীতেও শহরটিতে কয়েকবার হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতিরা। তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা জুলাইয়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর সৌদি আরবের সঙ্গে আবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে তারা দেশটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
জিজানে দিনে ৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি রিফাইনারি রয়েছে। এটি সৌদি আরবের অন্যতম বড় রিফাইনারি। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি কারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে।
সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের গত মাসে বলেছিলেন, ওই হামলায় কোম্পানিটির তেল উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে এতে কোম্পানিটির কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
গত কয়েক মাসে জিজান থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণ পরিশোধিত তেলজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে হুতিরা হামলা আবার শুরু করার পর রপ্তানি নাটকীয়ভাবে কমে যায়। জ্বালানি ও পণ্যবাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যমতে, আগস্টে জিজান থেকে কোনো তেলজাত পণ্য পাঠানো হয়নি।
সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে হুতিদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দেয়। ২০২২ সালের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর গত জুলাই পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের লড়াই হয়নি।
তবে গত সপ্তাহান্তে হুতিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল বরাবর স্থল অভিযান শুরু করেছে। বাব আল-মানদেবের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুতিদের এই অভিযানের ফলে ইয়েমেনে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।
পালাবদল/এসএ