মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
সারাবাংলা
নাম-বাবার নামে মিল, প্রকৃত আসামির বদলে জেল খাটলেন জেলে





পটুয়াখালী প্রতিনিধি
Tuesday, 8 September, 2026
12:49 AM
 @palabadalnet

পুলিশের ভুলে ২০ দিন কারাবন্দি থাকা জলিল হাওলাদার (বামে) এবং প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদার (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের ভুলে ২০ দিন কারাবন্দি থাকা জলিল হাওলাদার (বামে) এবং প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদার (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রতারণার মামলায় প্রকৃত আসামির জায়গায় এক জেলেকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। আসামির সঙ্গে ওই জেলের নাম ও বাবার নাম মিলে যাওয়ায় এবং গ্রেফতারি পরোয়ানায় মায়ের নাম উল্লেখ না থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা দিলে গ্রেফতার করা হয় মো. জলিল হাওলাদারকে (৪৭)। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারেও পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি উপেক্ষা করে তথ্য নিশ্চিত না হয়েই জলিলকে গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি আসলে এই মামলার আসল আসামি নন।

গ্রেফতারের ২০ দিন পর আজ সোমবার একই আদালত থেকে জামিন পান জলিল।  গতকালইকারাগারে জামিনের নথি পৌঁছানোর পর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে তিনি মুক্তি পান।

তার আইনজীবী হুমায়ুন কবীর জানান, মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন। কিন্তু নাম ও পরিচয়ে সাদৃশ্য থাকায় পুলিশ তার মক্কেলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হলে জলিলকে জামিন দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ঘটনায় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৪৭ বছর। পেশায় তিনি একজন জেলে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে শিববাড়িয়া এলাকা থেকে জলিল হাওলাদারকে গ্রেফতার করেন মহিপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলাম। ওই দিনই তাকে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জলিলের মেয়ে জেসমিন আক্তার অভিযোগ করেন, তার বাবাকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মামলার বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ করেন। তার বাবার নামে কোনো মামলা নেই বলেও তিনি পুলিশকে জানান। কিন্তু তার ও স্থানীয় লোকজনের আপত্তি উপেক্ষা করে পুলিশ তার বাবাকে আদালতে পাঠায়।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাবার নামও আব্দুল মালেক হাওলাদার এবং তার বাড়িও একই এলাকায়। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৩৫ বছর এবং মায়ের নাম মাজেদা বেগম।

প্রকৃত আসামির বাবা জানান, তার ছেলে জলিল ২০২৩ সালে সৌদি আরব গেছেন এবং এরপর এখনো দেশে ফেরেননি। তার ছেলের পরিবর্তে পুলিশ অন্য একজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে, এটা তিনি মহিপুর থানার পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারেন।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের রফিক মুন্সির ছেলে আলমগীর হোসেন অর্থ প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি কলাপাড়ার শিববাড়িয়া এলাকার আব্দুল মালেক হাওলাদারের ছেলে জলিল হাওলাদারকে একমাত্র আসামি করেন। মামলার আরজিতে আসামির কাছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়।

পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামি জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৮ মে তার সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার বলেন, “গ্রেফতারি পরোয়ানার কপিতে আসামির মায়ের নাম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকলে এ ধরনের ভুল হওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর তার জামিন পাওয়ার বিষয়ে আইনজীবী নিয়োগসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।”

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]