মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
আইন-আদালত
আবুল কালাম আজাদকে আপিলের সুযোগ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আদেশ বেআইনি: আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর





নিজস্ব প্রতিবেদক
Tuesday, 8 September, 2026
12:54 AM
 @palabadalnet

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ আপিল করতে পারবেন-এই শর্তে আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে আদেশ দিয়েছিল, সেটি বেআইনি ছিল।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আদেশটি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩) পরিপন্থী ছিল। এই আইন অনুযায়ী রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এই বিধান সবার জন্য প্রযোজ্য-সেটি শেখ হাসিনা, আবুল কালাম আজাদ কিংবা অন্য কোনো পলাতক আসামি হোক, অথবা কারাগারে থাকা কেউ হোক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ছাপিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নির্বাহী আদেশের নেই। কাজেই, সরকারের আদেশের যে অংশে আপিল করার শর্তে আবুল কালাম আজাদকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেটি অবৈধ ও বেআইনি ছিল।”

তবে আমিনুল জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় কোনো সাজা স্থগিত করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

তিনি বলেন, “তার সাজা স্থগিত করার বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। সেই ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। সরকার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে প্রসিকিউশনের কোনো আপত্তিও নেই।”

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে এবং বিচারের পরও তিনি পলাতক ছিলেন।

২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করে। ওই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই তার বাংলাদেশে ফেরার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

আমিনুল বলেন, “আবুল কালাম আজাদের আপিল ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ বা নথিভুক্ত করেননি। তাই তার মামলায় আপিল বিভাগে এমন কোনো বিচারাধীন কার্যক্রম নেই, যার ক্ষেত্রে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হতে পারে। শুনানির সময় আপিল বিভাগের বিচারকরাও একই ধরনের মতামত দিয়েছিলেন।”

তিনি জানান, আজাদের আইনজীবীরা পরবর্তী সময়ে হয়তো আইনি অবস্থানটি বুঝতে পেরেছিলেন এবং সে কারণেই আপিলের বিষয়ে আর কোনো উদ্যোগ নেননি।

আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর আরও বলেন, “ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ৩০ দিন পার হয়ে গেলে সেই রায় কার্যকর করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প আমি দেখি না।”

সরকার আজাদের সাজা স্থগিত করতে বাধ্য কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল বলেন, “এটি বাধ্যবাধকতা বা নজিরের বিষয় নয়। ৪০১ ধারা সরকারকে একান্ত নিজস্ব বিবেচনামূলক ক্ষমতা দিয়েছে। সরকার যেকোনো সময় যেকোনো সাজা স্থগিত, মওকুফ এমনকি বাতিলও করতে পারে।”

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]