
তুরস্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এখন আর কার্যকর নেই। আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি জাহাজে ইরানের হামলার পর তেহরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাব দিতে বাহরাইন ও কাতারে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা করে ইরান।
পাল্টা জবাব দিতে বাহরাইন ও কাতারে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা করে ইরান।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়।
এরপর তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। ওই উদ্যোগে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অসংখ্য দেশ এই সংকটে প্রভাবিত হয়।
তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে এবং তারা জাহাজ পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফি আদায় করবে। পাশাপাশি, তাদের বেঁধে দেওয়া পথ ছাড়া অন্য পথে এই প্রণালি পার হতে গেলে নৌযানের ওপর হামলার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। জবাবে, গতকাল মঙ্গলবার প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
আজ বুধবার তুরস্কে অনুষ্ঠানরত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প মত দেন, “আমি যতদূর জানি, এটা (যুদ্ধবিরতি) শেষ হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে দরকষাকষি করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।”
“আমাদের অসামান্য মধ্যস্থতাকারীরা যদি (তাদের সঙ্গে) আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে আমি এতে আপত্তি করব না। তবে আমি এখানে সাফল্যের সম্ভাবনা দেখি না। আমি এসব মানুষকে (ইরানিদের) পছন্দ করি না,” যোগ করেন তিনি।
বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল বিক্রির ক্ষেত্রে ইরানকে যে ছাড়পত্র দিয়েছিল আমেরিকা, তা প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের তরফে। গত ১৭ জুন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর হয়। তার পরই ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহারের কথা জানায় আমেরিকা। বিজ্ঞপ্তি জারি করে আমেরিকার অর্থ দফতর জানিয়েছিল, ইরানের জন্য একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করা হচ্ছে। এই লাইসেন্স ২১ অগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোকেমিক্যাল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির অনুমতি দেবে ইরানকে। সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা জানায় আমেরিকা। আর তার পরই সংঘর্ষবিরতি ‘শেষ’ করার কথা ঘোষণা করলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম পাঁচ শতাংশ বেড়ে গেছে।
পালাবদল/এসএ