
গোলের পর উল্লাস লিয়োনেল মেসির। ছবি: রয়টার্স
চার দিন আগে কেপ ভার্দে। এবার মিশর। পর পর দু’টি ম্যাচে বেরিয়ে পড়ল আর্জেন্টিনা দলের কঙ্কাল। আক্রমণ, মাঝমাঠ থেকে রক্ষণ, বার বার ভুল করেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিরুদ্ধে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ১৩ মিনিটের ঝড়ে হারের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি ঢেকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সব ত্রুটি।
৭৯ মিনিট। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ক্রস বাড়ালেন মেসি। হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তনের শুরুটা করলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর গোল করার দায়িত্ব মেসি নিজেই নিলেন। তার ক্রসে যে আক্রমণ শুরু, তা শেষ হল তার পায়েই। ফিরতি বলে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে দিলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল খেলা অতিরিক্ত সময়ে এগোচ্ছে। ঠিক তখনই ডান প্রান্ত থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল করলেন ফের্নান্দেজ। ০-২ পিছিয়ে থাকা ম্যাচ ৩-২ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।
আরও এক বার দলের রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিলেন মেসি। হ্যাঁ, তিনি আবার সহজ পেনাল্টি ফস্কেছেন। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়। হ্যাঁ, তাঁর ফ্রি কিক পোস্টে লেগে বেরিয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, ৭২ মিনিট পর্যন্ত তিন মার্কারের দাপটে মিশরের বক্সে ঢুকতে পারছিলেন না তিনি। সেই মেসিই ৭৩ মিনিট থেকে ডান প্রান্তে সরে গেলেন। ব্যস, সেখানেই শেষ মিশর। জায়গা তৈরি করলেন নিজের জন্য। গোল করালেন। গোল করলেন। এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় তিনিই।
আর সেই কারণেই অসাধ্যসাধনের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। অঝোরে কেঁদেছেন। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেছেন। সতীর্থেরা তাকে ঘাড়ে তুলে লাফিয়েছেন। মেসির কান্না বুঝিয়েছে, কতটা চাপে ছিলেন তিনি। সতীর্থদের উল্লাস বুঝিয়েছে, মেসি না থাকলে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যেত তাদের।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও লিয়োনেল স্কালোনির সামনে অনেক প্রশ্ন। তার রক্ষণ মুখ লোকানোর জায়গা পাচ্ছে না। যে ভাবে দু’বার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সামনে দিয়ে মিশর গোল করে গেল, তা দেখে বোঝা যাচ্ছে কত ভুল করেছেন তিনি। প্রতি আক্রমণ থেকে সালাহ, হাসান, জিকোরা যত বার আর্জেন্টিনার বক্সের দিকে এগোলেন, ত্রাহিরব উঠল। ভাগ্য সাহায্য না করলে ০-৩ গোলে পিছিয়ে পড়ত আর্জেন্টিনা।
শুধু রক্ষণ কেন, মাঝমাঠ ও আক্রমণের অবস্থাও এক। বল ধরার লোক কম। রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টারেরা ব্যাক পাস ও স্কয়্যার পাস খেলতেই ব্যস্ত। সেই মেসিকেই নীচে নেমে বল ধরে আক্রমণ করতে হচ্ছে। সেখানেও এঞ্জো ও ইউলিয়ান আলভারেজ় দায়িত্ব নিয়ে ঝোলাচ্ছেন। ফলে গোলের সুযোগ কমছে। মিশরের বদলে ফ্রান্স বা স্পেন হলে কিন্তু মেসিও কিছু করতে পারতেন না।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনও দিন ০-২ পিছিয়ে থেকে খেলা জেতেনি আর্জেন্টিনা। এমনকি, ড্র পর্যন্ত করেনি তারা। সে দিক থেকে দেখতে গেলে এটা আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তন। মেসির পায়েই তা সম্ভব হলো। আর তাতে আর্জেন্টিনার যাবতীয় ত্রুটি ঢাকা পড়ে গেলেও পরের কয়েকটা রাতে হয়তো ঘুমোতে পারবেন না স্কালোনি। কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে তার সামনে অনেক কাজ। দলের ফাঁক ভরাট করতে হবে যে।
পালাবদল/এসএ