
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধেই দুর্বলতা বোঝা গিয়েছিল। শেষ ৩২-এ জাপান দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। তা থেকে শিক্ষাই নিল না ব্রাজিল। নরওয়ে ছিল বাকি দুই দেশের থেকে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে কঙ্কালসার অবস্থা বেরিয়ে পড়ল ব্রাজিলের। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে। আগের দু’টি বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিটকে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। এবার তার থেকে এক রাউন্ড আগেই ছিটকে গেল তারা। নরওয়ের বিরুদ্ধে না জেতার ফাঁড়া এবারও কাটল না। ১-২ গোলে হারল ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের নকআউটে কোনও না কোনও দলকে হারতেই হবে। সেটাই নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় সেই হারেও থাকে গর্ব। যেমন কিছু দিন আগে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কেপ ভার্দে হারলেও মন জয় করে নিয়েছিল। কিন্তু এদিন ব্রাজিল যে ফুটবলটা খেলল, তাকে জঘন্য, দিশাহীন, লজ্জাজনক বললেও কম বলা হয়। গোটা ম্যাচে এক বারও দেখে মনে হয়নি তারা জিততে পারে। পেনাল্টি নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারায়েস। সেটি গোল করে ম্যাচ ড্র এবং অতিরিক্ত সময় হতে পারত। তা হয়নি ভাগ্যের পরিহাসেই। কারণ ব্রাজিল কোনও ভাবেই এই ফুটবল খেলে যোগ্য দল হিসাবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার অধিকারী ছিল না।
রক্ষণাত্মক ফুটবল
এই কি সেই ব্রাজিল যেখানে খেলে গিয়েছেন রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, রোনাল্ডিনহোর মতো ফুটবলার। তিন জনেই নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। অবসর ভেঙে তারা ফিরে এলে বোধহয় কাসেমিরো, ব্রুনোদের চেয়ে ভালেঅ খেলতেন। অন্তত এভাবে মাথা নিচু করে, লজ্জা নিয়ে ফিরতে হতো না। নরওয়ের কাছে আগেই নিজেদের সমর্পণ করে দিয়েছিল ব্রাজিল। শুরু থেকেই ভয় নিয়ে ফুটবল খেলেছে তারা। ভাবটা এমন, যেন সামনে ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো দল খেলছে। এত রক্ষণাত্মক ফুটবল ব্রাজিল কবে খেলেছে তা মনে পড়া দুষ্কর। দু’গোলে পিছিয়ে থাকার সময়েও ব্রাজিল অনেকটা সময় কাটিয়েছে নিজেদের অর্ধে। নিজেদের মধ্যে পাস খেলে গিয়েছে। কোনও তৎপরতাই ছিল না গোল শোধ দেওয়ার।
কেন পেনাল্টি মারলেন গিমারায়েস
গোটা ম্যাচে দু’বার পেনাল্টি পেয়েছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি প্রথমে মাঠের রেফারি দেননি। পরে ভার-এর হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলান। কিন্তু ব্রুনো যেভাবে শটটি নিলেন, তা পাড়ার ফুটবলেও দেখা যায় না। পেনাল্টি শট মারার আগে থেমে যাওয়া এখনকার ফুটবলে খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। তার পরেও যদি গোলকিপারের হাতে বল তুলে দিতে হয় তা হলে মুশকিল। দেখেই মনে হয়েছে, ব্রুনো মোটেই পেনাল্টি মারতে পটু নন। কেন তাকে পেনাল্টি মারতে দেওয়া হলো। ভিনিসিয়াস ছিলেন। তিনি মারতে পারতেন। হতে পারে তিনি নিয়মিত পেনাল্টি মারেন না। ব্রাজিল দলে রাফিনহা বা লুকাস পাকেতা ফিট থাকলে তারাই পেনাল্টি মারতেন। কিন্তু দু’জনেই চোটে। তা হলে কেন আত্মবিশ্বাসী ভিনিসিয়াসকে দেওয়া হলো না শট মারতে?
কোথায় সেই ইচ্ছাশক্তি
আগে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলতে নামলে বিপক্ষ দলগুলির ফুটবলারদের পা কাঁপত। আগে ব্রাজিলকে সমীহ করে, এমন দল খুব কমই রয়েছে। বিশ্বকাপ খেলতে আসা ‘বুড়ো’ ব্রাজিল দল এই ম্যাচের আগে সমীহ করার মতো ফুটবল খেলতেও পারেনি। তবু ফুটবলে একটি ম্যাচ অনেক বার্তা দিয়ে যায়। তাই ব্রাজিলের কাছেও সুযোগ ছিল সব সমালোচনার জবাব দেওয়ার। উল্টো একরাশ লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো। ব্রাজিলের খেলার মধ্যে সেই ঝাঁঝই দেখা যায়নি কোনও সময়। পিছিয়ে পড়ার পরেও তাদের খেলায় এমন কিছু দেখা যায়নি যা নরওয়েকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। হ্যাঁ, দু’-এক বার আগ্রাসী ফুটবল খেলে নরওয়ে গোলকিপারকে ব্যস্ত রেখেছে ব্রাজিল। কিন্তু নকআউট ম্যাচ জেতার জন্য সেটা যথেষ্ট নয়। ক্লাব ফুটবলে খেলোয়াড়েরা নিজেদের এতটাই নিংড়ে দেন যে দেশের হয়ে ভাবার সময় থাকে না?
পালাবদল/এসএ