রবিবার ৫ জুলাই ২০২৬ ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার ৫ জুলাই ২০২৬
 
বিদেশ
আঘাতের পরও ভাঙেনি ইরান, খামেনি-পরবর্তী প্রজাতন্ত্রের নতুন সমীকরণ কী





পালাবদল ডেস্ক
Sunday, 5 July, 2026
10:34 PM
 @palabadalnet

তেহরানের এক ব্যানারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি, পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিকৃতি। ছবি: এএফপি

তেহরানের এক ব্যানারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি, পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিকৃতি। ছবি: এএফপি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও অনেক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা প্রাণ হারান। এর মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের একটি যুগের অবসান ঘটে।

বর্তমানে সেখানে যুদ্ধবিরতির মধ্যে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে নিঃশেষ করে ফেলা। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অনেক পর্যবেক্ষকের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।

দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইরান দ্রুত নতুন বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিপ্লব-পরবর্তী নতুন এই নেতৃত্ব আগের তুলনায় বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং কৌশলগতভাবে আরও সক্রিয়।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিবর্তন কি শুধু নেতৃত্বের পালাবদল, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা?

ভার্সাই থেকে মধ্যপ্রাচ্য

গত মাসে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। স্থানটি বেছে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

কারণ, একই প্রাসাদে ১৯১৯ সালে সই হয়েছিল ঐতিহাসিক ভার্সাই চুক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছিল এই চুক্তি। সেই ইতিহাসের সঙ্গে এবারের মাত্র দেড় পৃষ্ঠার নতুন এই সমঝোতা স্মারকের তুলনা করতে শুরু করেন অনেকে।

দুই চুক্তির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও প্রশ্ন উঠেছে-এই সমঝোতাও কি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে?

যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও তা এখন পর্যন্ত ভঙ্গুর। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ছোট ছোট সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের মূল কারণগুলোরও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি এখনো অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

দুর্বল ইরান, নাকি আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ?

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ভালি নাসরের মতে, বড় যুদ্ধ শুধু বিজয়ী-পরাজিত নির্ধারণ করে না, এটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক দাবার ছকই বদলে দেয়।

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে সাজিয়ে দিতে পারে।’

যুদ্ধের আগে ইরানকে অত্যন্ত দুর্বল বলেই মনে করা হচ্ছিল।

দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। পারমাণবিক কর্মসূচিও বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

একই সময়ে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকার ক্ষমতা হারায়। লেবাননে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। গাজায় হামাসের ওপর ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান চলে। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও একাধিক হামলা হয়।

এসব কারণে অনেক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছিল, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ফলের সঙ্গে এ ধারণা পুরোপুরি মিলছে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক চাপের মধ্যেও ইরান রাষ্ট্র হিসেবে টিকে গেছে। শুধু তাই নয়, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতাও দেখাতে পেরেছে তেহরান।

ফলে যুদ্ধ শেষে প্রশ্নটি নতুনভাবে সামনে আসে-আসলে কে কাকে দুর্বল করল?

নতুন নেতৃত্ব, নতুন কৌশল

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যাকে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইরানের জন্য সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তার ভাষায়, একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম এখন ক্ষমতায় এসেছে। তারা একদিকে যেমন যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে শান্তি আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাসর বলেন, ‘ইরানের নতুন এই নেতৃত্ব আগের প্রজন্মের মতো আদর্শবাদী নয়, বরং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করে না।’

নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বয়স ৫৬ বছর। তার বাবা প্রয়াত আলি খামেনির চেয়ে প্রায় ৩০ বছর ছোট তিনি। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ওয়াহিদিসহ বর্তমান নেতৃত্বের বেশিরভাগই বিপ্লব-পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বিবিসিকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন আলি খামেনির নেতৃত্বই রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের বড় বাধা ছিল। তার বিদায়ের পর সেই কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’-নীতি থেকে সরে এসেছে তেহরান

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আলি খামেনির সময় ইরান এমন একটি কৌশল অনুসরণ করত, যেখানে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা হতো।

কিন্তু নতুন নেতৃত্ব সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনায়ও অংশ নেয়।

ভালি নাসরের মতে, আগের নেতৃত্বের তুলনায় বর্তমান নেতৃত্ব অনেক বেশি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাদের দ্বিধা কম।

এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২০ সালের ঘটনাটি উল্লেখ করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইআরজিসির কমান্ডার কাশেম সোলেইমানি নিহত হলে, ইরান ঘোষণা দিয়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধে সেই সংযম দেখা যায়নি। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এ দফায় কুয়েতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক সেনা আহত হয়।

উপসাগরীয় রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ

বিবিসির মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা-নীতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু এবার সেই ঘাঁটিগুলোই ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, উপসাগরীয় অনেক দেশ এখন বুঝতে পারছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকির কারণও হয়ে উঠতে পারে।

তার মতে, এ কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এমনকি সৌদি আরবও আঞ্চলিক বৈঠকের উদ্যোগ নিতে পারে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।

তবে ভায়েজ মনে করেন, এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে দেবে। কারণ বাস্তবে ওয়াশিংটনের বিকল্প এখনো তাদের হাতে নেই।

ইরানের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাবে?

যুদ্ধের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

তেহরানে নতুন নেতৃত্ব এলেও সাধারণ মানুষের জন্য আরও স্বাধীন বা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা এখনো সামনে আসেনি।

চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজির মতে, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এখন নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। তাই ভিন্নমত দমনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

তবে সামাজিক কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে হিজাবের বাধ্যবাধকতা কার্যত শিথিল হয়েছে। তেহরানের কিছু রেস্তোরাঁয় নীরবে মদ বিক্রিও চলছে-যা আগে কল্পনাও করা যেত না।

অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে আদর্শগত কোনো কারণ নেই। বরং যুদ্ধের পর রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই সরকার বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

যুদ্ধের পর বদলে গেছে সাধারণ মানুষের মনোভাবও

সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের সাধারণ মানুষের মানসিকতায়ও বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছে বিবিসি।

বহু বছর ধরে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ থাকা অনেক মানুষ যুদ্ধের সময় ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হতে দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন-তাদের প্রকৃত শত্রু কে?

যুদ্ধের প্রথম দিনেই মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহু শিশুর মৃত্যু সেই প্রশ্নকে আরও তীব্র করে তোলে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে তুলে ধরছিল, তাদের হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-এমন উপলব্ধিও তৈরি হয়েছে ইরানি সমাজের একাংশে।

চীনের মতো সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইরান

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলি ভায়েজ বর্তমান পরিস্থিতিকে মাও-পরবর্তী চীনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তার মতে, ইরানের পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন বুঝতে পারছে যে পুরোনো পথে আর এগোনো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণের সঙ্গে নতুন এক সামাজিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে।

তবে সেই পরিবর্তন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

কারণ ক্ষমতার কেন্দ্র আগের চেয়ে আরও বেশি মাত্রায় আইআরজিসির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ এখনো মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।

কূটনীতিতে নতুন সুযোগ

যুদ্ধের পর উত্তেজনা পুরোপুরি না কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক ‘মৌলিকভাবে পরিবর্তনের’ সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড়ের বিনিময়ে যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, তাহলে সেটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে।

সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে ইরান সীমিত পরিসরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারে।

আলোচনা সফল হলে ইরানের জব্দ থাকা কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পথও খুলে যেতে পারে।

এছাড়া সমঝোতা স্মারকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব অর্থনৈতিক প্রণোদনাই নতুন নেতৃত্বকে সমঝোতার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে।

সুযোগ যেমন আছে, ঝুঁকিও তেমন

চ্যাথাম হাউজের সানাম ভাকিল মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে বা আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ধৈর্য হারালে নতুন করে সামরিক সংঘাতও শুরু হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের অবিশ্বাস, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট এখনো অমীমাংসিত।

ফলে সামনে যেমন নতুন সম্পর্ক গড়ার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ব্যর্থতার ঝুঁকিও সমানভাবে রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান ভেঙে পড়বে-এই ধারণা বাস্তবে সফল হয়নি। বরং ইরানের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তুলনামূলক বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক-দুই পথেই এগোতে আগ্রহী।

এখন দেখার বিষয়-এই পরিবর্তন ইরানের জন্য নতুন স্থিতিশীলতার সূচনা করবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]