বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬ ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬
 
বিদেশ
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমাতে পারে আমেরিকা





পালাবদল ডেস্ক
Wednesday, 19 August, 2026
11:31 PM
 @palabadalnet

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে কয়েক মাসের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের বরাতে গতকাল মঙ্গলবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর দিয়েছে।

আজ বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফের কণ্ঠেও ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। ইরাক সফরে থাকা গালিবাফ বলেছেন, নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ ‘দ্রুত কমছে’। আমেরিকা এই অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।

ছয় মাস পূর্ণ হতে চলা ইরান যুদ্ধ কবে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে পারে, তা কেউ অনুমান করতে পারছে না। গত সোমবার আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া ৬০ দিনের প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হয়েছে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তবে এর এক দিন আগে ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার বলেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জোরালো।

ইরানও বলেছে, আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় তাদের আপত্তি নেই। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের শর্তে আলোচনা করতে এখন আমেরিকা ‘মরিয়া’ হয়ে পড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও বলেছেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী, তবে আলোচনাকে আত্মসমর্পণের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছে না।

ঘাঁটিগুলো নিয়ে নতুন ভাবনা

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি মূল্যায়ন করে দেখছে। যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তে এই বিশ্লেষণ ভূমিকা রাখতে পারে। জয়েন্ট স্টাফ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জর্ডান থেকে ওমান পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ মাইল বিস্তৃত অঞ্চলে প্রায় ২০টি স্থাপনায় সাধারণত ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন রাখে। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। কুয়েতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রয়েছে।

যুদ্ধের আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে কয়েকটি ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবায় ইরানের হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। এ ছাড়া দুই শতাধিক মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

অর্থনীতিতেও চাপ

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকবে। পরে ইউএইর প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]