বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬ ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার ১৯ আগস্ট ২০২৬
 
স্বাস্থ্য
হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার





নিজস্ব প্রতিবেদক
Wednesday, 19 August, 2026
6:36 PM
 @palabadalnet

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টি ও ৫৩ শতাংশ শিশুর শরীরে মাঝারি ধরনের পুষ্টিহীনতা ছিল; অর্থাৎ ৬৫ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছিল বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পরিপূর্ণ বুকের দুধ পায়নি। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শিশুদের মধ্যে যারা মারা গেছে, তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ শিশুই পরিপূর্ণ বুকের দুধ পায়নি।

আজ বুধবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আইসিডিডিআর,বি। এতে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম ও আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ বাকী।

সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম ও আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ৪৩ শতাংশ শিশু ৩ মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়েছে।

গবেষকরা বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন। নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন—৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জন, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া এমন ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জন, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়। ১ ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন বা ৯২ শতাংশ এবং সুপারিশকৃত ২ ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জন বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।

গবেষকরা বলেন, এর অর্থ এই নয় যে, পূর্ণ ২ ডোজ টিকা পাওয়া সব শিশুর ৭৬ শতাংশই হাম আক্রান্ত হচ্ছে। অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ৭৬ শতাংশের হিসাবটি কেবল শিশু হাসপাতালভিত্তিক অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত ২ ডোজ টিকা পাওয়া ২১ সন্দেহভাজন রোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তাদের মতে, দুই ডোজ টিকা পাওয়া ১৬ শিশুর হাম নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার অন্তর্ভুক্ত (সাবক্লেড) এবং অন্যান্য দেশে শনাক্ত হওয়া বি৩ ভাইরাসের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। গবেষকেরা ভাইরাসের এইচ প্রোটিনের অ্যান্টিবডি শনাক্ত করতে পারে এমন অংশ বা এপিটোপ অঞ্চলে ৪টি পরিবর্তন বা মিউটেশনও শনাক্ত করেছেন।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]