রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬
 
স্পোর্টস
বাংলাদেশ সব বিভাগেই আমাদের ছাড়িয়ে গেছে: কামিন্স





স্পোর্টস ডেস্ক
Sunday, 16 August, 2026
3:13 PM
 @palabadalnet

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হারটা যতটা না অপ্রত্যাশিত, তার চেয়ে বেশি ছিল একতরফা। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ধস, বল হাতে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে না পারা, দ্বিতীয় ইনিংসেও মিরাজ-হাসানদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ, কোনো জায়গাতেই স্বাগতিকরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। তাই ৯ উইকেটের হারের পর অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও রাখঢাক না করে মেনে নিলেন, “বাংলাদেশ সব বিভাগেই আমাদের ছাড়িয়ে গেছে।”

মারারা স্টেডিয়ামে টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান করলেও সে অর্থে মিরাজ-হাসানদের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস পরাজয় থেকে বাঁচালেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে তারা।

সেই লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় মাত্র এক উইকেট হারিয়ে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেই ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে হারের কারণ জানতে চাইলে কামিন্সের চোখে বড় ধাক্কাটা এসেছিল প্রথম দিনেই, “সম্ভবত প্রথম দিন থেকেই। আমার মনে হয়েছে আমাদের প্রস্তুতি একদম ঠিকঠাক ছিল, সত্যি বলতে সেটা দারুণ ছিল। তাই প্রস্তুতি নিয়ে কোনো অজুহাত নেই। তারা খুব ভালো খেলেছে।” 

“প্রথম দিনের উইকেটে শুরুতে কিছুটা সহায়তা ছিল বলে আমার মনে হয়েছে। তবে অবশ্যই আমাদের আরও কিছুক্ষণ ব্যাট করার উপায় খুঁজে বের করতে হতো। এরপর বল হাতেও আমরা তেমনভাবে চাপ তৈরি করতে পারিনি। তবে তারা সত্যিই খুব ভালো খেলেছে,” যোগ করেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসই ম্যাচের গতিপথ অনেকটা ঠিক করে দেয়। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে দলকে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন। সেখান থেকেই ম্যাচে বড় সুবিধা পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে অস্ট্রেলিয়া। কঠিন পরিস্থিতিতে ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর সেঞ্চুরিই অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস পরাজয় এড়াতে সাহায্য করে। তবে গ্রিনকে সঙ্গ দেওয়ার মতো আর কেউ দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকতে পারেননি।

কামিন্সও স্বীকার করেছেন, গ্রিনের এই ইনিংস ছিল দারুণ। “গ্রিনের টেম্পো দেখিয়েছে সে কতটা ভালো। তার সঙ্গে আমাদের আরও দু-একজনকে টিকে থাকতে হতো,” বলেন তিনি।

তবে গ্রিনের লড়াইয়ের পরও বাংলাদেশের সামনে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া। সেই রান তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান দ্রুত ফিরলেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক আর কোনো বিপদ হতে দেননি। মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসা বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সাফল্যের নেপথ্যে ছিল পরিকল্পনা ও ধৈর্য। হাসান মাহমুদ দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন ৯ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান গ্রিনকেও ফেরান তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজও দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার লেজ গুটিয়ে দেন।

ম্যাচের পর হাসান জানান, ফলাফল নিয়ে না ভেবে তারা নিজেদের পরিকল্পনায় বিশ্বাস রেখেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে কোচদের সঙ্গে ভিডিও বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তারা। মাঠে গিয়ে সেটিই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছেন।

কামিন্সের কথাতেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের সেই পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার স্বীকৃতি। “তারা করেছে। আমার মনে হয়, সব বিভাগেই তারা আমাদের পুরোপুরি ছাড়িয়ে গেছে। তারা খুব ধৈর্যশীল এবং বেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। আর আমরা একবার পিছিয়ে পড়ার পর সেখান থেকে ফিরে আসাটা সত্যিই কঠিন হয়ে গিয়েছিল,” বলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অবশ্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী। হারের পরও তার বিশ্বাস, দলটি নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও শক্তভাবে ফিরতে পারবে।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]