
হোয়াইট হাউসের সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জন ট্রাম্প। রাজনীতিতে আসার আগে ছিলেন আবাসন ব্যবসায়ী। আশির দশকেই পেয়েছেন ‘বিলিয়নেয়ারের’ তকমা। ফর্বস এর ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান ৬৯২। ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মজার বিষয় হলো, গত এক বছরেই, শুধু ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা করে তিনি এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী থেকে জানা গেছে, ট্রাম্পের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পরিচালিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ওই অর্থ আয় করেছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিকতা বিষয়ক সরকারী দপ্তর গতকাল মঙ্গলবার একটি ৯২৭ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। ওই নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনানশিয়াল নামের একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্টতার কারণে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।
ডব্লিউএলএফ নামে পরিচিত ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে আছেন ট্রাম্পের তিন ছেলে ও তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছেলে। এটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পাশাপাশি, $TRUMP ($ট্রাম্প) নামে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সির লাইসেনসিং চুক্তি থেকেও ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অভিষেকের কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই ক্রিপ্টোকারেন্সিকে নিজের নাম ধার দেন ট্রাম্প।
ফর্বস জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে পাওয়া আয়ের কারণেই মূলত ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
সাবেক আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিয়মিতই স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ ওঠে।
বিশেষ করে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালেই তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ করেছেন এবং একই সময়ে খাতটির নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর ফলে ক্রিপ্টো সম্পদের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
তবে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রধান উপপ্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, “প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবারের সদস্যরা কখনোই স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি, ভবিষ্যতেও জড়াবেন না।”
কেলি মন্তব্য করেন, “ট্রাম্প গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে রূপান্তর করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মার্কিন জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া। তথাকথিত “সাংবাদিকরা”, যারা এর বিরোধিতা করেন, তারা মূলত ডেমোক্র্যাটদের মিথ্যা বয়ানকেই নতুন করে প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।”
১৯৭৮ সালের একটি আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে তাদের আয় ও সম্পদের বিস্তারিত হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করতে হয়।
পালাবদল/এসএ