বুধবার ১ জুলাই ২০২৬ ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার ১ জুলাই ২০২৬
 
স্পোর্টস
নিখুঁত, তীক্ষ্ণ, দ্রুত, পরিকল্পিত! বিশ্বকাপের নকআউটে নতুন ফ্রান্স





স্পোর্টস ডেস্ক
Wednesday, 1 July, 2026
12:34 PM
 @palabadalnet

কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসেদের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স

কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসেদের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স

ফুটবল কত সুন্দর হতে পারে, সুইডেনের বিরুদ্ধে প্রতি মিনিটে বুঝিয়ে দিলেন কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসেরা। সুইডিসেরা খারাপ খেলেছেন, এমন নয়। কিন্তু ফ্রান্সের নিখুঁত টোটাল ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারেননি।

নকআউট পর্বের ফ্রান্স আলাদা। যে কোনও দলকে হারাতে পারে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার। দিদিয়ের দেশঁর দলকে হারাতে হলে ব্রাজ়িল, আর্জেন্টিনাকেও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। লিয়োনেল মেসি বা ভিনিসিয়াস জুনিয়র একা এই ফ্রান্সকে রুখতে পারবেন না। নিখুঁত, তীক্ষ্ণ, দ্রুত, পরিকল্পিত ফুটবল খেলল ফ্রান্স। দেশঁ যেন কম্পিউটার পোগ্রামিং করে দল নামিয়ে ছিলেন। সুইডেনের ভাল ফুটবলও খারাপ লাগল।

দিনটা ছিল আসলে ওলিসের। তিনিই সুইডেনকে সবচেয়ে বিব্রত করলেন। খেলা তৈরি করলেন, গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়ালেন, নিজে একাধিক দুরন্ত শট মারলেন। কিন্তু গোল পেলেন না। কখনও পোস্টে লেগে ফিরল বল। কখনও সুইডেনের গোলরক্ষক বাঁচিয়ে দিলেন। এমবাপের কথাও বলতে হবে। জোড়া গোল করলেন। বিশ্বকাপে ১৮টি গোল হয়ে গেল তার। মেসিকে তাড়া করছেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল পর্যন্ত চলতে পারে দুই প্রাক্তন সতীর্থের গোলের লড়াই। বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা লড়াইয়ের হ্যাটট্রিক হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ-ফুটবলের তিন বিভাগেই নিখুঁত ছিল ফ্রান্স। তেল দেওয়া মেশিনের মতো মাঠের সব প্রান্তে দৌড়ে বেড়িয়েছেন ফরাসি ফুটবলারেরা। নিজেদের মধ্যে ছোট-বড় নিখুঁত পাস খেলেছেন। প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দিতে নিজেদের মধ্যে জায়গা বদল করেছেন। পায়ে অযথা বল রাখেননি। সবচেয়ে ভাল জায়গায় থাকা সতীর্থকে মুহূর্তে খুঁজে নিয়েছেন। সেরা ফুটবল খেলার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন। ম্যাচের শুরু থেকেই করেছেন। তবু প্রথম গোল পেতে ফ্রান্সকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। গোলের ভাল ভাল সুযোগ তৈরি হলেও কাজের কাজ হচ্ছিল না। ২০ মিনিটে অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় এমবাপের গোল। ৩২ মিনিটে ওলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে দুরন্ত শট মেরেছিলেন এমবাপে। পোস্টে লেগে ফিরে আসে বল। ৩৬ মিনিটে ওলিসের বাইসাইকেল কিকও পোস্টে ফেরে। এর ১ মিনিট পরেই উসমান দেম্বেলের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। সুইডেনের ডিফেন্স বার বার ভেঙেও গোল হচ্ছিল না।

ফ্রান্সের প্রথম গোল সেটপিসের ফসল। ছোট কর্নারের পর দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে সুইডেনের দু’জন ফুটবলারকে কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। প্রথমার্ধথে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্সকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিপজ্জনক দেখিয়েছে। ৫৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ফ্রান্স। ওলিসের পাস থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। তার দুরন্ত ফিনিশিংও মনে রাখার মতো। ৭৪ মিনিটে ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এমবাপে। এই গোলেও ওলিসের অবদান। তার ডিফেন্স চেরা পাস থেকে গোল না করে উপায় ছিল না এমবাপের! ছ’নম্বর গোল করে এ বারের বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে ছুঁয়ে ফেললেন মেসিকে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা হল ১৮। শুধু নকআউটেই রেকর্ড ১০টি। নজির গড়লেন ওলিসেও। এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গোল করালেন সতীর্থদের দিয়ে। যা সর্বোচ্চ। ওলিসেই হলেন দেশঁর দলের ব্যান্ড মাস্টার। সম্ভবত জীবনের সেরা ফর্মে রয়েছেন তিনি।

সুইডেন খারাপ খেলেছে তা নয়। নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছে। আক্রমণে উঠেছে। অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেনি। দ্রুতগতির ফুটবল তারাও খেলেছে, কিন্তু ফ্রান্সের পাশে বেমানান লেগেছে। মাঠে ফ্রান্সের দাপট এতটাই নিরঙ্কুশ ছিল যে, ৮৫ মিনিটে এমবাপেকে তুলে নেন দেশঁ। এই ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করা হল না ফ্রান্স অধিনায়কের। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ জার্মানিকে ছিটকে দেওয়া প্যারাগুয়ে।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]