মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬
 
বিদেশ
নেতানিয়াহু জটিল প্রকৃতির মানুষ, তিনি চুক্তিটিকে প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন: ট্রাম্প





আল জাজিরা
Monday, 15 June, 2026
11:34 PM
 @palabadalnet

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ভীষণ জটিল প্রকৃতির’ মানুষ। এবার এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং, ইরানের সঙ্গে শান্তিসমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রশংসা করলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভূমিকার।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই ভালো। তবে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার শেষ পর্বে ঘন ঘন দু’জনের মধ্যে মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে। ‘বন্ধু’ বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম)-র সঙ্গে কখনও ফোনকলে কথা বলার সময়ে মেজাজ হারিয়েছেন ট্রাম্প। কখনও আবার প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। সতর্ক করেছেন। এমনকি রোববার লেবাননে ইসরায়েলি হানা নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইসরায়লকে সংযত থাকতে বলেছেন তিনি। এবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হতেই ফের নেতানিয়াহুকে একহাত নিলেন ট্রাম্প।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “উনি খুব জটিল প্রকৃতির মানুষ। সত্যি বলতে তার আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ, ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তা হলে ইসরায়েল দু’ঘণ্টাও টিকতে পারত না।” বরং, আমেরিকার দুই ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ রাষ্ট্রের প্রধান জিনপিং এবং পুতিনের প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, জিনপিং এবং পুতিন উভয়েই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত মেটাতে সাহায্য করেছেন। অন্তত হরমুজ প্রণালীর অবরোধে এই দুই দেশ কোনও হস্তক্ষেপ করেনি বলে জানান তিনি। এর জন্য রাশিয়া এবং চীনকে সাধুবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, গত মাসেই চীন সফরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিঙের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। এবার সেই জিনপিংকে ‘নিপাট ভদ্রলোক’ বলে সম্বোধন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানকে চাপে রাখতে আমেরিকা জলপথে অবরোধ শুরু করেছিল। ট্রাম্প জানান, ওই সময়ে চীন কোনও ট্যাঙ্কারকে পাহারা দিতে ‘ডেস্ট্রয়ার’ রণতরী পাঠায়নি। এর জন্য চীনের প্রশংসা করেন তিনি।

সোমবার ভোরে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পরে ট্রাম্প এ নিয়ে বিবৃতি দেন। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে চুক্তিস্বাক্ষর এখনও হয়নি। তা হবে আগামী শুক্রবার। তবে এই শান্তিচুক্তির পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নও উঁকি মারতে শুরু করেছে। শুরুর দিকে ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে সেভাবে সরব না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বার বার তেলআবিবের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। রোববারও ভর্ৎসনা করেছেন ইসরায়েলকে। এবার কি তা হলে পিছু হটবে তেলআবিব? আমেরিকা-ইরানের পরবর্তী আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পথ খুলে দেবে কি ইসরায়েল? পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানের সশস্ত্র বন্ধু গোষ্ঠীগুলির ভূমিকাই বা কী থাকবে? এই বিষয়গুলি এখনও অস্পষ্ট।

হরমুজ খুলে দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এই জলপথ দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল শুরু হলে জ্বালানি এবং অন্য পণ্য পরিবহণের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা। সে ক্ষেত্রে বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল দানা বেঁধেছে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা যে পাল্টা অবরোধ ঘোষণা করেছিল, তা-ও তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এমনটা হলে ইরানের উপর থেকে আর্থিক চাপ কমবে। সে ক্ষেত্রে আমেরিকা-ইরান পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনায় আরও গতি আসে কি না, সে দিকেও নজর থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। ফলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এখন যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তির বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা।

এ বিষয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, শুক্রবার চুক্তি সইয়ের পর বিশ্ববাণিজ্যের জন্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]