শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬
 
বিদেশ
কইয়ের তেলে কই ভাজার পরিকল্পনা আঁটছেন ট্রাম্প





পালাবদল ডেস্ক
Saturday, 25 July, 2026
2:43 AM
 @palabadalnet

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

গত জুনে ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একমত হয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে তেহরান-ওয়াশিংটন। ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সইয়ের তিন সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিমত দেখা দেয়। 

ইরান দাবি করে, তাদের নির্ধারণ করে দেওয়া পথ ধরেই জাহাজগুলোকে চলাচল করতে হবে এবং সার্বিকভাবে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে।

এ পর্যায়ে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানের অনুমোদিত পথ এড়িয়ে ভিন্ন পথে হরমুজ পার হওয়ার চেষ্টা চালালে তাদের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও হামলা চালায়।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন।

গত ১৩ দিন ধরে চলছে সেই অভিযান। ওয়াশিংটনের আগ্রাসনের জবাবে বাহরাইন, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সেনা ও অন্যান্য স্থাপনার ওপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান।

এসব হামলায় যত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে, সেটা পরিপূরণে এক অভিনব পরিকল্পনা এঁটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কইয়ের তেলে কই ভাজবেন তিনি।

নানা অজুহাতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো।

এবার সেই সম্পদের ব্যবহারে চলতি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বিষয়টির উল্লেখ করা হয়।

সমঝোতা স্মারকের ১১ নম্বর দফায় বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জব্দ বা সীমিত ব্যবহারের আওতায় থাকা অর্থ ও সম্পদ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার অঙ্গীকার করছে।”

ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের জব্দ সম্পদ ব্যবহার করে জাহাজ, পণ্য বা এ-সংক্রান্ত যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির অর্থ পরিশোধ করা হবে।” পাশাপাশি, তিনি এই উদ্যোগকে ‘ন্যায্য ও সমতাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, জাহাজ ও পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ থেকেই পরিশোধ করা হবে। এ জন্য ব্যয়ের পরিমাণ ‘খুবই বড়’ হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ‘উসকানিমূলক কাজ’ বলে অভিহিত করেন।

এর জবাবে আরাঘচি লেখেন, “যারা এ ধরনের অর্থ জব্দ করাকে উদ্‌যাপন করছে বা এর মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে, তাদের মনে রাখা উচিত-এক দেশের সরকার অন্য দেশের সম্পদ জব্দ করার বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তুললে কারও সম্পদই আর নিরাপদ থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “এর পর যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, তা সুখকর বা শান্তিপূর্ণ হবে না।”
 
পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]