
ভূমিকম্পে কুমামোতোতে সবচেয়ে বড় শপিং মলের একাংশ ধসে পড়েছে। ছবি: রয়টার্স
জাপানের দক্ষিণ-পূর্বে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে একজন নিহত ও প্রায় শতাধিক আহত হয়েছেন।
ভূমিকম্পে অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় শপিং মলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনের একাংশ ধসে পড়ায় ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকেই।
ভূমিকম্পে রাস্তাঘাট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবনধস ও বেশ কিছু স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অঞ্চলটির ৪৮ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। ট্রেন চলাচল ও বিমানের ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এরপর ৪ দশমিক ৫ মাত্রার বেশ কয়েকটি আফটার শক হয়।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পে একটি বাড়ি ধসে পড়ে একজন মারা গেছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৯০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রমতে, আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভূমিকম্পের পর কুমামোতোর এইওন শপিং সেন্টারে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির দ্বিতীয় তলার একাংশ ধসে পড়েছে এবং ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকে।
প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনিধসে একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানিয়েছে এনএইচকে।
ভূমিকম্পের পর বিশ্বের বৃহত্তম চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি টিএসএমসি, সনি ও ফুজিফিল্ম তাদের কারখানাগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে।
অন্যতম শীর্ষ চিপ প্রস্তুতকারক টোকিও ইলেকট্রন জানিয়েছে, তারা বুধবার পর্যন্ত কুমামোতোতে তাদের দুটি কারখানার কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হোন্ডাও তাদের মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
ভূমিকম্পের কারণে ৪৮ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার।
রেলওয়ে কোম্পানি জেআর কিউশু জানিয়েছে, বুলেট ট্রেনসহ সব ধরনের সেবা স্থগিত করেছে তারা।
বেশকটি এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। বন্ধ রয়েছে কুমামোতো বিমানবন্দর।
ভূমিকম্পের পর কুমামোতো, ফুকুওকা, সাগা ও নাগাসাকির উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে আবহাওয়া দপ্তর।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, সরকার একটি জরুরি দল গঠন করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, আরও এক সপ্তাহ শক্তিশালী ভূমিকম্প ও ভূমিধসের ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করেছে আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)।
পালাবদল/এসএ