বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ● ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬
 
রাজনীতি
সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ জামায়াতের





Thursday, 15 October, 2026
2:48 PM
 @palabadalnet

মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মজুত যদি চাহিদার চেয়ে বেশিই থাকে, তাহলে সারের জন্য কৃষকের হাহাকার কেন-প্রশ্ন তুলে ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এ সময় অন্য কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “সারের ডিলারশিপ নিয়োগ ও সারের সংকট নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা এবং দলীয়করণ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।”

তার ভাষ্য, সার আমদানি, বিতরণ ও ডিলার নিয়োগে সু্স্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

উপজেলা-জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যদের অনেকেই রাজনৈতিক বিবেচনায় মনোনীত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ডিলার নিয়োগের মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব এখন প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে পরিণত হয়েছে।”

নীতিমালায় এক পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নিষিদ্ধ। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে হয়, থাকতে হয় নিজস্ব গোডাউন ও আর্থিক সক্ষমতাও। গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, “সব কিছু একের পর এক ভঙ্গ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, সরকারদলীয় এমপি ও নেতারা কে কতজনকে ডিলার করবেন তা ভাগ করে নিয়েছেন এবং টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ বিলি করছেন।”

অভিযোগের সপক্ষে তিনি বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও রংপুরের পীরগাছায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১০ লাখ টাকা দিয়েও ডিলারশিপ না পাওয়ার দাবি, ভুয়া গোডাউন ও জাল চুক্তিনামার অভিযোগ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বরিশালে এমপি ও নেতার স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার খবর।

তিনি আরও দাবি করেন, দিনাজপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের নির্দেশনায় তালিকার শীর্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের রাখতে এবং জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের নাম বাদ দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তারা বিএনপির এমপিদের দেওয়া তালিকা থেকে নিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন বলেও তিনি জানান।

জামায়াতের এমপিদের এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। এর জবাবে গোলাম পরওয়ার পাল্টা তথ্য দেন, গণমাধ্যমের খবরে বিএনপির এমপিদের ১৪টি আসনেই সার নিয়ে কৃষকের ভোগান্তির কথা উঠে এসেছে। সার কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিষয় হলেও স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী কেন তা নিয়ে কথা বলছেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রতিমন্ত্রী বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের ডিলারশিপ, চাকরি ও ঠিকাদারির মাধ্যমে মূল্যায়নের কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ দেশে আর কোনো জনগণ, আর কোনো দল আছে, এটা উনারা মূল্যায়ন করেন না।”

সরকারের নিজস্ব হিসাবকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের বরাতে জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারের মোট চাহিদা ৫৮ লাখ মেট্রিক টন, আর সরকারি হিসাবে চাহিদার চেয়ে প্রায় ৯ লাখ টন বেশি মজুত আছে।

“যদি চাহিদার তুলনায় সার পর্যাপ্ত হবে, তাহলে অভাব দেখা যাচ্ছে কেন? তাহলে সার বিতরণের শতভাগ ব্যর্থতা সরকারের,’ বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত অভিযোগগুলো অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানায়। একইসঙ্গে নিয়োগের মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি প্রকাশ, ডিলারশিপের নামে অর্থ আদায়কারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, কৃত্রিম সংকট নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তি প্রকাশ এবং নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত ব্যাখ্যা ও তদন্তের অগ্রগতি জানানোর দাবি করা হয়।

পাশাপাশি দলটি বলেছে, প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে দায়ী করা যাবে না।

প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতও ডিলারশিপ চায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের এমপিরা কোনো সার বিতরণ করে না, তাদের কোনো ডিলারশিপ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কেন পাইনি, আমাদের কেন দেওয়া হয়নি, এ অভিযোগ আমাদের নয়।”

যোগ্য ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই ডিলারশিপ পাবেন-এটাই দলের দাবি, যোগ করেন তিনি।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, জামায়াত ‘নন-ভায়োলেন্ট, রেসপনসিবল, কনস্ট্রাকটিভ’ ভূমিকা পালন করছে।

তবে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যায়, দাবি যখন পূরণ হয় না, তখন জনগণের কাছে আর কোনো গ্রামার থাকে না।”

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]