শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬
 
দক্ষিণ এশিয়া
আমরা যে কারও পদত্যাগপত্র আদায় করতে পারি: ককরোচ প্রধান দীপকে, যন্তর মন্তরে উল্লাস ও আনন্দাশ্রু





পালাবদল ডেস্ক
Saturday, 25 July, 2026
4:57 PM
 @palabadalnet

‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ছবি: পিটিআই

‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ছবি: পিটিআই

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসাবে দেখছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। গত কয়েক দিনের আন্দোলনের জেরে সরকার এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি তার। আর এই ‘জয়ের’ কৃতিত্ব পুরোটাই দেশের শিক্ষার্থী এবং যুব সমাজকে দিচ্ছে সিজেপি।

ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের খবর যন্তর মন্তরে পৌঁছোনোর পরই উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। চোখে পানি দেখা যায় অভিজিতের। প্রায় সকল আন্দোলনকারীর চোখে আনন্দাশ্রু। যন্তর মন্তরে মঞ্চ থেকে অভিজিৎ বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই প্রমাণ করে যে আপনারা যদি ভয় না-পান, সরকারের কাছে মাথা নত না-করেন, তবে আমরা যে কারও পদত্যাগপত্র আদায় করতে পারি।”

নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবিতে সরব সিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে দু’দফা বৈঠকে একই দাবিতে অনড় ছিল তারা। শনিবার আবার কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা তাদের। তবে সকালেই সিজেপি-র তরফে দাবি করা হয়েছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না-দিলে, আর আলোচনার কোনও অর্থ হয় না। তার পর থেকেই কেন্দ্র-সিজেপি-র তৃতীয় দফার বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তার মধ্যেই আচমকা পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র।

কয়েক দিনের এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ দীপকে। শত ‘চাপে’ অনড় ছিলেন দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হতেই বাঁধভাঙা আনন্দে ফেটে পড়েন তিনি। একই সঙ্গে মনে করান, “পরিবর্তনের জন্য ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিকল্প কোনও পথ নেই।” আন্দোলনকারীদের জয়োল্লাস, স্লোগানের মধ্যে বক্তৃতা করতে গিয়ে বার কয়েক থমকাতে হয় দীপকে-কে। অনড় থাকার লড়াইকে প্রাধান্য দিলেন তিনি। তার কথায়, “পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, কখনও মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম, কোনও মেধাবী পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ ‘পরীক্ষা মাফিয়াদের’ হাতে নষ্ট হতে দেব না। কারও প্রতি অবিচার হতে দেব না।”

আন্দোলনের পথ থেকে এখনই সরছেন না, জানালেন দীপকে। সিজেপি-র তরফে মোট তিনটি দাবি সরকারের কাছে রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রথম দাবিই ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। এ ছাড়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দাবি নিয়ে তেমন জটিলতা না-থাকলেও প্রথম দাবি কেন্দ্র মানবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। যদিও দ্বিতীয় বা তৃতীয় দাবি মানা নিয়ে সরকারের তরফে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। সেই কথা উল্লেখ করে দীপকে বলেন, “ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের আরও দু’টি দাবি আছে। আমরা এভাবে যাব না। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটাই গণতন্ত্র।”

দীপকে জানান, সরকার যদি লিখিত ভাবে তাদের তিনটি দাবি মেনে নেয়, তবে আর রাস্তায় থাকবেন না। আরেক আন্দোলনকারী তথা সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, শান্তিপূর্ণ মোমবাতি মিছিল করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় সেই মিছিলের ডাক দিয়েছে সিজেপি। শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসার কথা তাদের। তবে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র জানান, লিখিত ভাবে সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা না-জানালে অবস্থান মঞ্চ ছাড়বেন না তারা।

মাস দুয়েক আগে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এক মন্তব্য থেকে ‘ককরোচ’ দলের উত্থান। বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ ‘আরশোলা’র মতো আচরণ করেন বলে মন্তব্য করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। ওই মন্তব্যের পরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির জন্ম হয়। তারা একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে নেটমাধ্যমে। ধীরে ধীরে ভারতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তারা। সেই দলের উত্থানের নেপথ্যে থাকা দীপকে পুণে থেকে সাংবাদিকতা নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা চলে যান। তবে নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলন শুরু হলে ভারতে ফিরে আসেন তিনি।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]