
দিল্লিতে প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি। ছবি: এপি
শিক্ষায় দুর্নীতি এবং তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের অনড় মনোভাবের কারণে জনমানসে ক্ষোভ বাড়ছে। এমনটাই মনে করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অন্যতম প্রধান মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে, শুধু কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন সীমাবদ্ধ থাকবে না। আরও নেতা-মন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া হতে পারে। সেই পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য কেন্দ্রকে নমনীয় হতে হবে, দাবি রাঙ্কার। সিজেপি’র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যে কেন্দ্রের দু’বার বৈঠক হয়েছে। শনিবার তৃতীয় দফার আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা। তার আগেই সরকারকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন ‘ককরোচ’ নেতা।
শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না-করলে আন্দোলন থামবে না, জানিয়ে দিয়েছে সিজেপি। শনিবার সকালে রাঙ্কা সমাজমাধ্যমে নতুন করে সেই বার্তা দিয়েছেন। লিখেছেন, ‘‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবির সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। সরকার যদি তাতে রাজি না থাকে, তা হলে নতুন করে আলোচনার কোনও মানে নেই।’’
একটি সাক্ষাৎকারে রাঙ্কা বলেছেন, “এটা একটা সংবেদনশীল বিষয়। মাসের পর মাস ধরে এটা চলতে পারে না। কারণ, সারা দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সরকার আমাদের যত বেশি অপেক্ষা করাবে, ক্ষোভ তত বাড়বে। এখন সেই ক্ষোভের নিশানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও চলে এসেছেন। সরকারকে বুঝতে হবে, আগামী দিনে হয়তো আন্দোলন আর শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।”
সিজেপি’র তরফে মোট তিনটি দাবি সরকারের সামনে রাখা হয়েছে-এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। দুই, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং তিন, প্রশ্নফাঁসের কারণে নিট বাতিল হওয়ার পর যে ছাত্রছাত্রীরা আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। শুক্রবার সিজেপি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর দু’টি দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তায় তারা রাজি হয়েছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আপাতত কেন্দ্রের ভাবনায় নেই বলে মনে করা হচ্ছে। নড্ডা জানান, সিজেপি-র দাবিদাওয়া নিয়ে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং আজ শনিবার ফের বৈঠক করবেন।
সিজেপি-র আন্দোলনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ভিডিয়োবার্তায় নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরি করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন। রাঙ্কার প্রশ্ন, এত দিন পর কেন প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপের কথা বলছেন? আগে কেন বলেননি? তার কথায়, “আন্দোলন শুরুর ৪৫ দিন পর উনি কথা বললেন। প্রশ্নফাঁসের পর প্রায় দু’মাস লাগল ওনার সক্রিয় হতে!” শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাথায় যিনি আছেন, তাকে না-সরালে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে না, মনে করেন সিজেপি নেতা।
পালাবদল/এসএ