
১৯৭১ সালে প্রধান প্রশিক্ষক ভারতীয় সেনা অফিসার মেজর জেনারেল সুজন সিং উবানের সাথে মুজিববাহিনির চার কমান্ডার: সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মণি, তোফায়েল আহমেদ ও আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: সংগৃহীত
তোফায়েল আহমেদ ছিলেন স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম ফ্যাসিবাদ তথা একদলীয় শাসন বাকশালের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন মুজিব বাহিনির ফোর হর্সম্যানের একজন। চার খলিফার এক খলিফা।
মুজিব বাহিনি কী? মুজিব বাহিনি ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (RAW) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি বাহিনি যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার কর্তৃক গঠিত মুক্তিবাহিনির কর্তৃত্ব অস্বীকার করে প্যারালাল একটি বাহিনি হিসেবে কাজ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাহিনির কাজ ছিল আওয়ামী-বিরোধী ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী মুক্তিযোদ্ধাদের দমন করা।
মুক্তিযুদ্ধের পর এই বাহিনি থেকেই প্যারামিলিশিয়া রক্ষিবাহিনির সৃষ্টি হয়। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনির সাথে মারণঘাতী দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে রক্ষিবাহিনির অনানুষ্ঠানিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
রক্ষিবাহিনির হাতে জাসদসহ তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের রক্ত। অন্তত ২৫-৩০ হাজার জাসদ ও বামপন্থী নেতাকর্মীদের রক্ষিবাহিনি হত্যা করেছে বলে বিভিন্ন হিসাবে উঠে এসেছে।
১৯৭১ সালে ইন্ডিয়ার দেরাদুনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (RAW) মুজিববাহিনিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। র-এর হয়ে তোফায়েলদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনা অফিসার মেজর জেনারেল উবান।
১৯৭১ সালে মুজিববাহিনির ওপর লিখিত উবানের বই “Phantoms of Chittagong: The Fifth Army in Bangladesh” পড়লে দেখা যায় মুজিববাহিনির চার খলিফার মধ্যে তোফায়েল ছিলেন উবানের বিশেষ আস্থাভাজন।
বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে মুজিববাহিনির প্রভাব বিপুল। তা এতটাই যে প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘তোফায়েল ক্যাডার’ বলতে আলাদা একটি ক্যাডারের অস্তিত্বের ব্যাপারে গুঞ্জন বিদ্যমান।
মুক্তিযুদ্ধের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় মুজিববাহিনির যে সকল অনুগত ক্যাডারদের প্রশাসনে আত্মীকরণ করা হয়েছিল, তাদের জন্য এই নাম।
১৯৯৬ সালে কেন গোটা আমলাতন্ত্র বিএনপির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, তা বিএনপি আগেও ধরতে পারে নাই। ভবিষ্যতেও পারবে না।
বাংলাদেশের রাজনীতি, আমলাতন্ত্র ও কালচারাল ইন্ডাস্ট্রিতে মুজিববাহিনির প্রভাব এখনো প্রবলভাবে বিদ্যমান।