শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ● ৮ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার ● ২৪ অক্টোবর ২০২৬
 
রাজনীতি
ক্ষমতাচ্যুত শক্তি আবার ফিরে এলে তা প্রত্যেককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে: নিয়াজ আহমেদ





নিজস্ব প্রতিবেদক
Saturday, 24 October, 2026
6:01 PM
 @palabadalnet

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শক্তি আবার ফিরে এলে তা প্রত্যেককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি এতই শক্তিশালী যে এই শত্রুকে মোকাবিলার ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নির্দিষ্ট ঘরানার মানুষ বা সরকারের পক্ষেও এককভাবে সম্ভব নয়। তাই এই অভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য পরস্পরের হাত ধরে রাখা দরকার।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে নিয়াজ আহমেদ খান এ কথা বলেন। ‘জাতীয় ঐক্য: সংকট উত্তরণের উপায়’ শিরোনামে এই সভার আয়োজক ভিশন পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (ভিপিএসএসসি)।

আলোচনায় নিয়াজ আহমেদ বলেন, “নেতিবাচক রাজনীতির কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা বিভাজিত হয়ে গেছি, যা আমাদের বিপর্যস্ত করেছে। আমরা একটা কঠিন অবস্থায় আছি। রাজনীতির ওপরে গিয়ে আমরা সবাই চাই, বর্তমান সরকার সফল হোক, দেশে স্থিতিশীলতা থাকুক। কারণ, বহু মানুষের রক্তের ঋণ নিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আমরা মোটামুটিভাবে খেয়ে–পরে বেঁচে থাকতে চাই। সে জন্যই ঐক্যের আলোচনাটা প্রয়োজন। তবে এর কোনো রাতারাতি সমাধান নেই।”

ঐক্য ধরে রাখতে হলে বিভাজন কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি বলেন, “খুবই পদ্ধতিগতভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গত দুই দশকে আমরা বিভাজিত হয়েছি।” এ প্রসঙ্গে কট্টরবাদী ও উদারপন্থী-এমন বাইনারি তৈরি করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘লেবেলিং’ করে শত্রুপক্ষ তৈরি করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার যৌক্তিকতা তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক মানুষ বনাম জঙ্গি মানুষ, ১৯৭১ বনাম ২০২৪—এসবের কোনো প্রয়োজন নেই। ইতিহাসের পরম্পরা আছে। ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪-এগুলো বাংলাদেশের জাতিসত্তার মূল পরিচায়ক। এগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু দাঁড় করানো হচ্ছে।

তিন সুযোগ

জাতীয় ঐক্যের জন্য তিনটি ‘আশাব্যঞ্জক সুযোগের’ কথা উল্লেখ করেন নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি বলেন, প্রথমত, নানা রকম ষড়যন্ত্র-ট্যাগিং ও লেবেলিংয়ের মধ্যেও তরুণদের কিছু প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে গেছে। যত নড়বড়েই হোক, এসব তরুণ ও নবগঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ঐক্যের পথে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে, রাখছে। এ অবস্থায় তাদের হাতটা ধরে রাখা প্রয়োজন। দ্বিতীয় আশার কথা হচ্ছে, বর্তমান সরকারি দল ও বিরোধী দল-সবাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি। একটা কমন পয়েন্টে (অভিন্ন অবস্থান) আসতে পারলে গণ-অভ্যুত্থানকে সাক্ষী রেখে এখনো ঐক্য ধরে রাখার সুযোগ আছে। এ জন্য ঐক্য নষ্ট করতে এখন যেকোনোভাবে গণ-অভ্যুত্থানকে ছোট ও হালকা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তৃতীয় আশা সম্পর্কে নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, “সাধারণ শত্রু বা কমন থ্রেট থাকলে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। আমাদের ক্ষেত্রে পুরোনো শক্তি ফেরত এলে সেটি প্রত্যেককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমাদের সামনে এখনো একটা কমন থ্রেট আছে। গণ–অভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তিকে দুর্বল মনে করার কোনো কারণ নেই। ফলে আমাদের ঐক্য প্রয়োজন এ কারণেই, এককভাবে ওই শত্রু মোকাবিলার ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নির্দিষ্ট ঘরানার মানুষ বা সরকারের পক্ষেও এককভাবে সম্ভব নয়। এই শত্রু এতই শক্তিশালী। এই কমন থ্রেট আমাদের একত্র করতে পারে। পতিত শক্তি যদি আবার ফেরত আসে, তার পরিণতি আমরা সবাই জানি। ফলে অস্তিত্বের জন্যই আমাদের হাত ধরে রাখা দরকার।”

সভা সঞ্চালনা করেন ভিপিএসএসসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রব, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোদাসসের হোসেন খান বীর প্রতীক, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক, উন্নয়নকর্মী রুবি আমাতুল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী ও মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর, ভেটেরানস বাংলাদেশের আহ্বায়ক মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারী প্রমুখ।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]