
ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি। তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ হত্যা ও দুর্নীতির বিভিন্ন মামলার বিচার চলছে। ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার চিঠি দিলেও ভারত এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি।
তিনি বলেন, একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও এটি এক ধরনের হস্তক্ষেপ।
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি ভারত সরকারকে অবহিত করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দিন ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে তাঁর বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে, যা ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত পদক্ষেপ।
রিজভী বলেন, যেদিন গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ঘটে, যেদিন গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন সফল হয়, ঠিক সেই দিনেই তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ওই আন্দোলনে নিহতদের প্রতিও অসম্মান।
পালাবদল/এসএ