
সোমবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে হয়। ৩ আগস্ট। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদ্যাপন ও দেশের নানা সংকট সমাধানের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।
কর্মসূচিগুলো হলো ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ এবং সারা দেশে জেলা ও উপজেলায় গণমিছিল এবং তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট সমাধান, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ ও সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা। একই দিনে সারা দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান।
সোমবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রমুখ।
বৈঠক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই দুই কর্মসূচির বাইরে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভাগভিত্তিক লংমার্চের একটি প্রস্তাব ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়োজোঁ কমিটির বৈঠকে আসে। সোমবার শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সেই প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। তবে এখনো লংমার্চের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তারিখ চূড়ান্ত করে ৫ আগস্টের সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হতে পারে। সেই সমাবেশ লংমার্চের পাশাপাশি ধারাবাহিক আন্দোলনের অন্যান্য কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।
১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সোমবার রাতে বলেন, শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কিছু কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেটি শিগগিরই জানানো হবে।
পালাবদল/এসএ