মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২৬ ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২৬
 
জাতীয়
গুমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ পাবে





Monday, 3 August, 2026
10:49 PM
 @palabadalnet

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গুমের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে, দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পদ না থাকলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে-এমন বিধান রেখে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে “গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বিধানও প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়ায় রাখা হয়েছে। গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গুমের কারণে কারো মৃত্যু হলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধানও খসড়া আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠক আইনটির খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং “ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গুম সংক্রান্ত আইনের খসড়ার বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘তাদের (গুমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের) জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।”

এছাড়া প্রস্তাবিত আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করার বিধানও প্রস্তাবিত আইনে রাখা হয়েছে’, বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]