রবিবার ১৯ জুলাই ২০২৬ ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ১৯ জুলাই ২০২৬
 
সাকার হ্যাটট্রিকে ১০ গোলের রোমাঞ্চে তৃতীয় হলো ইংল্যান্ড





স্পোর্টস ডেস্ক
Sunday, 19 July, 2026
10:16 AM
 @palabadalnet

ছবি: রয়টার্স

ছবি: রয়টার্স

রক্ষণের কথা ভুলে দুই দলই মেতে উঠেছিল গোল উৎসবে। মিয়ামিতে রোববারের সেই পাগলাটে, রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্রান্সের অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই রুখে দিয়ে ৬-৪ ব্যবধানের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। আর এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই নিজেদের সেরা সাফল্য হিসেবে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল তারা।

ম্যাচটিতে রক্ষণভাগ যেন দুই দলের কাছেই ছিল দ্বিতীয় পছন্দ। প্রথমার্ধেই ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্রান্স। সেখান থেকে কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোলে ম্যাচে ফেরে তারা। সমতায় ফেরার বেশ কিছু সুযোগ মিস না করলে গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত। তবে এই ম্যাচেই বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এমবাপে।

ম্যাচ শেষের মাত্র তিন মিনিট আগে পেনাল্টি থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। তার এই গোলেই ব্যবধান ৫-৩ করে ইংল্যান্ড নিজেদের স্নায়ুচাপ সামলে নেয়। এর আগে প্রথমার্ধে ডেকলান রাইস ও এজরি কোনসার গোলে উড়ন্ত শুরুর পর সাকা একাই করেছিলেন জোড়া গোল।

খেলা শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে উসমানে দেম্বেলের একটি গোল ফ্রান্সকে কিছুটা আশা দেখালেও, অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় জুড বেলিংহাম টুর্নামেন্টে নিজের সপ্তম গোলটি করে ফরাসিদের সেই আশায় জল ঢেলে দেন।

ভেঙে গেল ১৯৫৮ সালের রেকর্ড

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ১০ গোলের এই রোমাঞ্চ এর আগে কখনো দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ ব্যবধানের জয়কে ছাড়িয়ে এটিই এখন এই পর্বের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশমকে একটি জয় উপহার দিতে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে উঠেছিল ফ্রান্স। যেখানে এমবাপের জোড়া গোল টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যা নিয়ে যায় ১০-এ। এর মাধ্যমে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির চেয়ে দুই গোল এগিয়ে গেলেন এবং বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে টপকে সর্বকালের সেরা গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন।

অবশ্য ৩৯ বছর বয়সী মেসির সামনে সুযোগ থাকছে সোমবার এই রেকর্ড নতুন করে লেখার, যেখানে নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

থমাস টুখেলের আক্রমণাত্মক কৌশল

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি সাধারণত কোনো দলই খেলতে চায় না। তাই দুই দলই তাদের একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে, বিশেষ করে দেশম মাঠে নামিয়েছিলেন দ্বিতীয় সারির রক্ষণভাগ।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। সম্ভবত সেই সমালোচনা থেকেই শিক্ষা নিয়ে টমাস টুখেলের দল ম্যাচের প্রথম বাঁশি থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় ডেকলান রাইসের দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

বেলিংহাম এবং হ্যারি কেইনের মতো তারকাদের বেঞ্চে রেখেও ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ ছিল দারুণ সচল। পাসগুলো শুধু পাশা-পাশি না খেলে ফরোয়ার্ডদের উদ্দেশ্যে বাড়ানো হচ্ছিল, যা ফরাসি রক্ষণভাগকে বারবার ভেঙে চুরমার করে দেয়।

এমবাপের জোড়া গোল এবং মাঝে ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে ৬৬ মিনিটের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে ৪-৩ করে ফেলে তারা। রক্ষণে কোণঠাসা হয়ে পড়লেও ইংল্যান্ড সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা ধরে রাখে। ১৯৯০ এবং ২০১৮ সালের প্লে-অফে হেরে যাওয়া ইংল্যান্ড অবশেষে এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হলো।
 
পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]