
আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান আহমেদ উইশাহর জানাজা পড়ছেন তার আত্মীয়-পরিজন। ছবি: এএফপি
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলা শুরুর পর কেটে গেছে দুই বছর আট মাসেরও বেশি সময়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েল-হামাসের সম্মতিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা ও ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর মিছিল থামেনি।
এই ধারায় গতকাল শনিবার ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার একজন ফটোসাংবাদিক নিহত হন।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, তাদের প্রতিনিধি আহমেদ উইশাহ গতকাল শনিবার মধ্য গাজায় নিজ বাড়িতেই ছিলেন। তখন তার ওপর হামলা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।
পরবর্তীতে ইসরায়েল দাবি করে, ওই সংবাদকর্মী ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সদস্য ছিলেন।
আজ রোববার ইসরায়েলের দাবি নাকচ করেছে আল জাজিরা। বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, “গাজায় আল জাজিরার সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী যে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে, আমরা তার নিন্দা জানাই। সর্বশেষ এ ধরনের ঘটনায় ফটোসাংবাদিক আহমেদ উইশাহ নিহত হয়েছেন।”
শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, আহমেদ উইশাহ হামাসের আরও দুই সদস্যের সঙ্গে একটি ‘সুনির্দিষ্ট হামলায়’ নিহত হয়েছেন এবং তিনি হামাসের স্নাইপার হিসেবে কাজ করতেন।
“আল জাজিরার আলোকচিত্রীর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি উইশাহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামাসের সশস্ত্র সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করে গেছেন”, যোগ করে সামরিক বাহিনী। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি ইসরায়েলি সেনা।
রোববার গাজার কেন্দ্রে অবস্থিত দেইর এল-বালাহ অঞ্চলে অবস্থিত আল-আকসা হাসপাতালে উইশাহর প্রাণহীন দেহকে ঘিরে তার আত্মীয়-বন্ধুদের শোক প্রকাশ করতে দেখেন এএফপির সাংবাদিকরা।
গাজার এক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক বিলাল আবু সামাক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে তিনি হতবাক হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, “প্রথমবারের মতো, আমি কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারছি না। অবৈধ দখলদাররা (ইসরায়েল) যুদ্ধক্ষেত্রের সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের নির্বিচারে হত্যা করে।”
আল জাজিরার বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “ইসরায়েল নিরবচ্ছিন্নভাবে আল জাজিরার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করে যাচ্ছে।”
সংবাদমাধ্যমটি দাবি করে, সাংবাদিক ও ফটোসাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এই অপরাধকে ধামাচাপা দিতে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আনছে দেশটি।
গত এপ্রিলে আহমেদ উইশাহর ভাই মোহাম্মদ উইশাহও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তিনিও আল জাজিরার সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজার যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত ২২০ জন সাংবাদিককে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন ‘কর্মস্থলে’ থাকা অবস্থায় নিহত হন।
পালাবদল/এসএ