বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
বিদেশ
আমরা প্রমাণ করেছি যে লড়াই করতে আমরা ভয় পাই না: পেজেশকিয়ান





পালাবদল ডেস্ক
Thursday, 24 September, 2026
2:20 AM
 @palabadalnet

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে মরহুম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ২৩ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্ক। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে মরহুম আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ২৩ সেপ্টেম্বর, নিউইয়র্ক। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

“ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি। আগ্রাসীও হয়নি। বরং সবসময় আলোচনার টেবিলে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি যে লড়াই করতে আমরা ভয় পাই না।”

বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর জাতিসংঘে এটি ছিল তার প্রথম উপস্থিতি। সংস্থাটির ৮১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে থাকা কোনো দেশের নেতা সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, তার দেশ ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার’। যুদ্ধের বেসামরিক হতাহতের কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ভাষণ দেওয়ার সময় সাধারণ পরিষদ কক্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রতিনিধি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

ভাষণের শুরুতে পেজেশকিয়ান ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি তুলে ধরেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই তিনি নিহত হন। এছাড়া ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক হামলায় নিহত ইরানি স্কুলশিশুদের ছবিও দেখান তিনি।

পেজেশকিয়ান ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শিকার হিসেবে তুলে ধরেন এবং তার দেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

তিনি বলেন, “ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে, যাতে হুমকি এড়ানো যায় এবং আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে না পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কেউ মনে না করে যে ইরানের শহরগুলোতে বোমা হামলার কোনো জবাব দেওয়া হবে না।”

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র চায় না। তবে দেশটির বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে না।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। ইরানের দাবি, যেকোনো চুক্তিতে চিকিৎসা গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকতে হবে। তবে ওয়াশিংটন কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিরোধিতা করে।

পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের দেশের জন্য শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি আমাদের স্বাভাবিক অগ্রগতির অংশ।”

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দীর্ঘদিনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, “আমাদের আঞ্চলিক সমস্যাগুলো এই অঞ্চলের দেশগুলোর হাতেই, এই অঞ্চলের মধ্যেই সমাধান করতে হবে। বাইরের শক্তিগুলোর খেলনা হওয়া যাবে না।”

ইসরায়েলের হামলারও সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি নেতার বক্তব্যেই ইসরায়েলের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ইরান, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছেন।

ভাষণের শেষে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা কখনো মাথা নত করব না, হাঁটু গেড়ে বসব না। আমরা সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে শক্তির ভাষা কখনো মেনে নেব না।”

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]