বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬
 
জাতীয়
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে





দ্য ডেইলি স্টার
Wednesday, 22 July, 2026
1:19 PM
 @palabadalnet

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, দলটির সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট কারসাজি, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতির অভিযোগে আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে তিন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন ২০১৮ সালে তাকে থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার ঘটনাও এক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ১৭ জন কর্মকর্তার নাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে। চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, এসব কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন আজ বৃহস্পতিবার বা আগামীকাল জারি হতে পারে।

এই ১৭ জন কর্মকর্তা ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৩ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার রয়েছেন।

বাধ্যতামূলক অবসর শিরোনামের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নথিটি দ্য ডেইলি স্টারের হাতে এসেছে।

ওই নথিতে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বেশির ভাগ কর্মকর্তাকেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক বা সুবিধাভোগী হিসেবে দেখানো হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতি ও সুবিধাজনক পোস্টিং পেতে নিজেদের পদবি ব্যবহার করেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঘটা কয়েকটি ঘটনার জন্য তিনজন নারী কর্মকর্তার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা এবং জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার ঘটনায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়ার পর আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়ির ভেতরে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়েছে, ফরিদা ইয়াসমিন ২০১৫ সালের ১০ জুন থেকে ২০২২ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত ডিএমপিতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে বিরোধী দলকে দমনে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে গোপন রাষ্ট্রীয় তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের গোপন শাখায় থাকার সময় টেলিফোনে আড়িপেতে বিরোধী দলের নেতা ও কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ করে তা পাচার করতেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন ও বিধান ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দমন-পীড়নে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মানিকগঞ্জের তৎকালীন এসপি বিধান ত্রিপুরার বিরুদ্ধে সে সময় নির্বাচনে কারসাজি করতে সহায়তা করা এবং পুরস্কার হিসেবে পুলিশের পদক নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি সোহেলী ফেরদৌস ২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট কারসাজিতে জড়িতদের সহায়তা করতে পুলিশ সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যা একটি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।

কক্সবাজারের সাবেক এসপি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারে যুক্ত থাকার এবং নিজের গাড়িতে করে ইয়াবার চালান পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

ডিআইজি মো. ওয়ালিদ হোসেনের বিরুদ্ধে ডিএমপিতে দায়িত্ব পালনের সময় বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং পিরোজপুরের এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এসপি আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী একটি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত, সুবিধাবাদী বা পেশাগতভাবে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মো. হাবিবুর রহমান এবং ফয়সাল মাহমুদসহ আবদুর রহিম শাহ চৌধুরীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০০২ সালের ১ জুলাই চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়।

নথি অনুযায়ী, ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি পেতে নিজেকে ছাত্রলীগের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা এবং সুলতানা নাজমা হোসেনের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংযোগ থাকা এসব কর্মকর্তা কী কী পদক পেয়েছেন এবং সরকারি খরচে কবে কোথায় বিদেশ সফর করেছেন, তার একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সরকার ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে (১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ১ জন এসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।

গত ৩ মে ১৭ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এবং ২২ এপ্রিল একই বিধানে ১১ জন ডিআইজি ও দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]