
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪১ লাখ নারী ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এতে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে সাত হাজার নারী এই কার্ড পাবেন। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে তাঁর সরকার দেশের চার কোটি পরিবারের নারীদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ১০টার কিছু আগে সড়কপথে গৌরনদীর বাটাজোরে পৌঁছান। এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও গৌরনদী-সরিকল সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেওয়া হাজার হাজার নেতা-কর্মী তাঁকে স্বাগত জানান।
গৌরনদীর সরিকল সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। আজ এখানে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গাছ বড় হওয়া পর্যন্ত যে যতটুকু পারবেন, ততটুকু যত্ন করবেন।” এ সময় তিনি স্লোগান দেন, “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”
পরে নারকেল, নিমসহ চারটি গাছের চারা রোপণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাছের যত্ন নিতে হবে। এটি বড় হলে এখানকার মানুষই এর সুফল ভোগ করবে। পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানান।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান শেষে গৌরনদী উপজেলায় ৬০০ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী কয়েকজন নারীর কথা শোনেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের এইচএসসি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করব। এদের মধ্যে যেসব মেয়ে ভালো ফল করবে, তাদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।”
সংক্ষিপ্ত এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশের সবাইকে নিয়ে শান্তিতে চলতে চাই। সবাইকে নিয়ে, সবার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলতে চাই। সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে মানবিকতার ভিত্তিতে আমরা এই দেশটাকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা যদি সবাই ধৈর্য নিয়ে চলতে পারি, তাহলে এই দেশটাকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-যে ধর্মেরই হই না কেন, আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য হচ্ছে, এই দেশে আমরা সবাই শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করেছি।”
সফরসূচি অনুযায়ী গৌরনদীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন এলাকায় সাগরদী খালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। সন্ধ্যায় তার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা।
পালাবদল/এসএ