
স্পেনের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: পিটিআই
লামিন ইয়ামালকে নয়, বিশ্বকাপটাকেই লাথি মেরে দিলেন লুকাস ডিগনে!
বক্সে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালের গায়ে সরাসরি পা চালিয়ে দেন ডিগনে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাচের ২০ মিনিটে এই ভুলের খেসারত দিতে হলো দিদিয়ের দেশঁর দলকে। মেসি হতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপেও।
ম্যাচের আগে যে জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা ছিল, তার ছিটেফোঁটাও দেখতে পাওয়া গেল না। নির্বিষ ফ্রান্সকে পুরোটা সময় স্রেফ নাচিয়ে ছাড়ল স্পেন। দুই অর্ধে একবার করে জাল কাঁপিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিল তারা। অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল লা রোহারা।
ডালাসে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ আসরের প্রথম সেমিফাইনালে কোনো পাত্তাই পায়নি ফ্রান্স। তাদেরকে অনায়াসে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্পেন।
পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বকাপের সেরা দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল প্রথম সেমিফাইনালে। মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি আগ্রহ ছিল দুই কোচের কৌশলের টক্কর নিয়েও। তাতে দেশঁকে পিছনে ফেলে দিলেন লুই দে লা ফুয়েন্তে। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেছিল স্পেন। পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তেরা মাঝ মাঠেই অফসাইডের ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। ফর্মে থাকা এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে জুটিকে এক রকম অকেজো করে দেন অফসাইডের ফাঁদে ফেলে প্রথমার্ধে একাধিক বার মাঝ মাঠ পেরিয়েই অফসাইডে আটকে যান এমবাপেরা।
ম্যাচের ১০ মিনিটেই বক্সের কাছে ফ্রিকিক পায় স্পেন। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্পেনকে। ২০ মিনিটের মাথায় ডিগনে ফাউল করে বলেন ইয়ামালকে। পেনাল্টি পায় স্পেন। গোল করতে ভুল করেননি মাইকেল ওলিসেল। চলতি মরসুমে দেশের হয়ে ১৪টি গোল হয়ে গেল তাঁর। স্পেনের আর কোনও ফুটবলার এক মরসুমে দেশের জার্সিতে এত গোল করতে পারেননি।
পিছিয়ে পড়লেও গুটিয়ে যায়নি ফ্রান্স। ধীরে ধীরে মাঝ মাঠে দাপট বাড়াতে থাকে তারা। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচ। দলগত কৌশল এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার লড়াইয়ে তবু বার বার আটকে গিয়েছে ফ্রান্স। এমবাপেরা খুব বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেননি প্রথমার্ধে। বার দুয়েক স্প্যানিশ রক্ষণকে পরাস্ত করে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যান এমবাপেরা। কিন্তু সতর্ক ছিলেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। দু’বারই অনেকটা এগিয়ে এসে শট মারার জায়গা ছোট করে দিয়ে দলের পতন আটকান। বরং ইয়ামাল, ওয়ারজ়াবাল, আলেক্স বায়েনারা ফ্রান্সের বক্সে বেশ কয়েক বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেন। ৩০ মিনিটে উইলিয়াম স্যালিবা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবর্ত হিসাবে দেশঁ নামান ম্যাক্সিন্স লাক্রোইক্সকে।
বিশ্বকাপের আগের ম্যাচগুলিতে ফ্রান্সকে যতটা অপ্রতিরোধ্য দেখিয়েছিল,স্পেনের বিরুদ্ধে তেমন দেখাল না। কিছুটা অগোছাল মনে হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাপ বজায় রেখে গিয়েছে স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। স্পেনের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। তবে বক্সের মধ্যে তাল কেটে গিয়েছে এমবাপেদের। কয়েক বার পরিস্থিতি সামলান সিমন। স্পেন এ সময় খেলছিল প্রতি আক্রমণমূলক ফুটবল। ৫৮ মিনিটে তেমনই একটি আক্রমণে ভুল করে বসে ফরাসি রক্ষণ। বক্সের একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের শটে পরাস্ত করেন মাইক মাইগনান।
২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর গোলের খোঁজে ৫৯ মিনিটে উদ্বিগ্ন দেশঁ ব্র্যাডলি বার্কোলাকে তুলে নিয়ে নামান ডেজিরে ডুয়ে। আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধিই লক্ষ্য ছিল তার। কিন্তু সতর্ক ছিল স্পেনের রক্ষণ। বরং ৬৪ মিনিটে আরও একটি প্রতি আক্রমণ থেকে গোল করেন ইয়ামাল। কিন্তু অতি সামান্য অফসাইডের জন্য তার গোল বাতিল হয়।
৭২ মিনিটে মাইকেল ওলিসে এবং ডিগনেকে তুলে রায়ান চেরকি এবং থিয়ো হের্নান্দেজকে নামান ফ্রান্স কোচ। তাতেও লাভ হয়নি। স্পেনের রক্ষণের সামনে বার বার খেই হারিয়েছে ফরাসি আক্রমণ। সময় যত এগিয়েছে তত চাপ বেড়েছে ফ্রান্সের ফুটবলারদের উপর। ৮৭ মিনিটে বক্সের ঠিক মাথায় ভালো জায়গায় ফ্রি কিক পায় ফ্রান্স। এমবাপের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়া দলকে মেসির মতো উদ্ধার করতে পারলেন না এমবাপে। এক দম শেষে সংযুক্ত সময়ে দেম্বেলের শটও আটকে দেন সিমন।
আগামী রোববার রাতের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল।
পালাবদল/এসএ