
দূর থেকে দারুণ শটে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর পেতার সুচিচের উল্লাস। ছবি: রয়টার্স
পা হড়কালেই সব শেষ হয়ে যেতে পারতো, ছিটকে পড়তে হতো টুর্নামেন্ট থেকে। ভীষণ চাপের ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলল ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ঘানা একবার ঘুরে দাঁড়ালেও, দ্রুতই আবার নিয়ন্ত্রণ নেয় জ্লাতকো দালিচের দল। দারুণ জয়ে তারা গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পা রাখল নকআউট পর্বে।
ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে ক্রোয়াটরা। পেতার সুচিচের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে সমতা টানেন ডেরিক লাকাশেন। ঘানার গোলটির কিছুক্ষণ পরই অবশ্য ব্যবধান গড়ে দেন নিকোলা ভ্লাসিচ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর, টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ হলো ক্রোয়েশিয়া। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে, সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরের ধাপে খেলবে ঘানা।
একই সময়ে শুরু অন্য ম্যাচে পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।
আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া পানামা পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
দুই দলের কাউকেই ম্যাচের শুরুর দিকে গতিময় ফুটবল খেলতে দেখা যায়নি। ঘানার নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হওয়ায়, তারা কখনোই সেভাবে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেনি। তবে ক্রোয়েশিয়া প্রথম মিনিট থেকে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে।
ভাগ্য সহায় হলে সপ্তদশ মিনিটে গোল পেতে পারতো ২০১৮ আসরের রানার্সাপরা; কিন্তু ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিকোলা ভ্লাসিচের শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় পোস্টে।
দূরপাল্লার শটেই ৩১তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন সুচিচ। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নিচু শটে গোলটি করেন ইন্টার মিলান মিডফিল্ডার। বলের গতি-প্রকৃতি বুঝতে মুহূর্ত বিলম্ব করায় আটকানোর তেমন সুযোগ পাননি গোলরক্ষক।
জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দুই বছর পর জালের দেখা পেলেন সুচিচ। প্রথম গোলটি করেছিলেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে, উয়েফা নেশন্স লিগে পোল্যান্ডের বিপক্ষে।
৪০তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে ঘানা। ম্যানচেস্টার সিটি উইঙ্গার অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর কোনাকুনি শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে বদলি নামার পরের মিনিটেই ক্রোয়াট রক্ষণে ভীতি ছড়ান ঘানার ফরোয়ার্ড ফাতায়ু। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার শট যদিও ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের পাঁচ মিনিটে আরও দুটি ভালো আক্রমণ করে তারা, তবে সাফল্য মেলেনি।
প্রতিপক্ষ ছন্দ হারিয়ে ফেলার সুযোগে চাপ ধরে রাখে ঘানা, এবং ৭৩তম মিনিটে সেট-পিস থেকে গোল আদায় করে নেয় তারা। সতীর্থের ফ্রি কিক ডি-বক্সে পেয়ে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সেন্টার-ব্যাক ডেরিক লাকাশেন।
শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজলেও, বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর, ভিএআর মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত বদলান রেফারি। উল্লাসে ফেটে পড়ে আফ্রিকান শিবির।
তাদের সেই উচ্ছ্বাস যদিও বেশিক্ষণ থাকেনি। ৮২তম মিনিটে মার্কো পাশালিচের বুলেট গতির শট দারুণ নৈপুণ্যে এক হাত দিয়ে বাইরে পাঠান গোলরক্ষক। লুকা মদ্রিচের নেওয়া ওই কর্নারেই আবার এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া, লাফিয়ে হেডে গোলটি করেন ভ্লাসিচ।
বাকি সময়ে কেউ আর তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, কোনো পক্ষকে মরিয়া হতে দেখা যায়নি।
পালাবদল/এসএ