মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬
 
স্পোর্টস
অতি নাটকীয়তায় জিতল অস্ট্রেলিয়া





ক্রীড়া প্রতিবেদক
Sunday, 14 June, 2026
8:45 PM
 @palabadalnet

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

তাসকিন আহমেদের বল কাভারে দিয়ে সীমানা ছাড়া করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন অ্যাডাম জাম্পা। যে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ছিল সহজ জয়ের পথে, শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেলে সেখানেই জাগল রোমাঞ্চ, এক সময় অবিশ্বাস্য এক জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়ে গেল বাংলাদেশের। শেষ রোমাঞ্চে অবশ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর স্বস্তি পেল সফরকারী দল।

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ১ উইকেটে। বাংলাদেশের ২৭৪ রানের পুঁজি তারা পার হয় ৩ বল আগে। তিন ম্যাচের সিরিজ প্রথম দুই ম্যাচেই জিতে নিয়েছিলো বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচটা জিতে অজিরা কেবল হোয়াইটওয়াশের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে পারল।

অজিদের জয়ের নায়ক কনলি। তরুণ ব্যাটার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি নিয়ে যান দেড়শোর কাছে। খেলেন ১৩৪ বলে ১৪৯ রানের ইনিংস। তবে জেতার কাজটা সমাপ্ত না করে আসায় বিপদে পড়েছিল তার দল। ক্যারিয়ার সেরা বল করে ৪৮ রানে ৬ উইকেট নেন শরিফুল। 

শেষ শটে দলকে জেতানো জাম্পাকেও ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন শরিফুল। তার স্পেলের শেষ ওভারে স্লিপে জাম্পার ক্যাচটা রাখতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। তার আগে ৬ উইকেট নিয়ে মরা ম্যাচে আচমকা রোমাঞ্চ জাগান এই বাঁহাতি পেসারই। সেঞ্চুরি করা কনলিকে প্লেড অন করে উত্তাপ ছড়ান মোস্তাফিজ। তবে জাম্পা ঠান্ডা মাথায় ৫ বলে ৪ রান করে সারেন কাজ।

অথচ এক পর্যায়ে অজিদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২৬৬ রান। হাতে ৫ উইকেট নিয়ে জয় থেকে স্রেফ ৯ রান দূরে ছিল তারা। ৫ রান তুলতেই দলটি হারায় ৪ উইকেট। জন্ম হয় অতি নাটকীয়তার।

রান তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা দারুণ, অন্তত আগের দুই ম্যাচের তুলনায় তো বটেই। ওপেনিং জুটিতে বদল এনে আগ্রাসী শুরু পায় তারা। ওভারপ্রতি ১০ করে রান আনছিলেন কনলি আর জশ ইংলিস। পঞ্চম ওভারেই অবশ্য আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। 

বাঁহাতি পেসারের বলে দলের ৪০ রানে ইংলিস ক্যাচ ম্যাট রেনশ লাইন মিস করে হন বোল্ড। আলেক্স কেয়ারিকে নিয়ে প্রথমে প্রতিরোধ গড়েন কনলি। থিতু হওয়া কেয়ারির উইকেট পেয়েছেন তাসকিন। তবে কৃতিত্ব দিতে হবে সৌম্য সরকারকে। বিদ্যুৎ গতির শট অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় শর্ট কাভারে মুঠোয় জমান তিনি। 

চাপে পড়া দলকে এরপর টানতে থাকেন কনলি। মারনাশ লাবুশানেকে নিয়ে যোগ করেন ৬৪ রান। আগের ম্যাচে রানে ফেরা লাবুশানে এদিনও বড় কিছুর আভাস দিচ্ছিলেন। তাকে নতুন স্পেলে ফিরে থামান শরিফুল। এবার উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ দেন বদলি কিপার নুরুল হাসান সোহান। 

এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে আরেক জুটি জমে যায় কনলির। দুজনে মিলে রানে-বলে তাল মিলিয়ে ৬৮ করার পর গ্রিনকে ফেরান শেখ মেহেদী। তাতে খুব একটা প্রভাব পড়েনি অজিদের রান তাড়ায়। 

একাদশে আসা তরুণ অলিভার পিক দেখান প্রতিশ্রুতি। আরও এক ৬০+ (৬৪) রানের জুটি আসে সফরকারীদের। শরিফুলের বলে পিক যখন আউট হয়ে ফিরছিলেন, তখন ম্যাচ জিততে তাদের দরকার কেবল ৯ রানের। ক্রিজে এসেই জেভিয়ের বার্টলেট প্রথম বলে আউট হলে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। 

চাপ তবু ছিল না কারণ ঠিক আগের ওভারেই তাসকিনকে তিন ছক্কায় সমীকরণ একদম মামুলিয়ে বানিয়ে দিয়েছিলেন কনলি। কিন্তু শরিফুল যেন হাল ছাড়ার পত্র নন। নিজের শেষ ওভারে বেন ডোয়ারশুইসকেও তুলে নিয়ে রোমাঞ্চের জন্ম দেন। মোস্তাফিজ কনলিকে আউট করার পর তো বাংলাদেশের জয়ের পাল্লাও ছিলো ভারি।  

সকালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিলো বাংলাদেশ। তিন টপ অর্ডার ব্যাটারের ব্যর্থতার পর বড় জুটিতে দলকে খেলায় ফেরায় তাওহিদ হৃদয় আর লিটন দাস। লিটন পেশির চোটে মাঠ ছাড়ার পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এসে দেখান ছন্দ। শেষ দিকে লিটনও ফেরেন মাঠে। এই তিনজনের ফিফটিতে বাংলাদেশ পায় চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সংগ্রহ। বিশেষ করে হৃদয় ছিলেন অনবদ্য। ৮৮ বলে করেন ৮৩। দলে ফিরে প্রথম ম্যাচের নায়ক মোসাদ্দেক এদিনও ছিলেন ঝলমলে। ৫১ বলে করেন ৫৬। লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৭৮ বলে ৫৮ রান।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]