শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
রাজনীতি
‘সরকার গণভোট অগ্রাহ্য করে অপমান করেছে, সেই প্রতিশোধ নিতে আমরা নেমেছি’





নিজস্ব প্রতিবেদক
Saturday, 19 September, 2026
2:28 PM
 @palabadalnet

 আজ শনিবার সকালে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছালে সেখানে পথসভায় বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।  ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার সকালে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছালে সেখানে পথসভায় বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার গণভোটকে অগ্রাহ্য করে তাদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা রাস্তায় নেমেছেন।

১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ আজ শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পৌঁছায়। সেখানে পথসভায় এ কথা বলেন শফিকুর রহমান।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’ জনগণের স্বার্থে ঘোষিত আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট, হাটবাজারসহ সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমাদের এই লংমার্চ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতে।’

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও জনতার উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে আপনাদের অপমান করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন ইনশা আল্লাহ এই বাংলার মাটিতে হবে। ওই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে।’

গাজীপুরের পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আজ সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান সরকারকে জনতার দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সরকার যেন সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নেয়। সেই শিক্ষা নিয়ে সরকার যেন জনগণের দাবি মেনে নেয়। দাবি মানতে ব্যর্থ হলে কোনো চোখরাঙানিতে কাজ হবে না। বিরোধী দল কোনো কিছুতেই পরোয়া করবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল হওয়ার পর ‘অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে’ এবং গত দুই দিনে রাজধানীতে এর কিছু লক্ষণ দেখা গেছে।

‘আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরঞ্চ জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন,’ বলেন তিনি।

সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের দাবি মেনে না নিলে কোনো ‘চোখ রাঙানিতে’ কাজ হবে না।

‘আমরা কোনো কিছুকে পরোয়া করব না। কারণ আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি,’ যোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আজকে ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের মানবাধিকার হরণে আগের সরকারের ব্যবহৃত আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোই ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছর তারা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। কিন্তু বিএনপি সরকারে এসে জনগণের মানবাধিকার হরণ ও গণতন্ত্র ধ্বংস করছে।

তারেক রহমানের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ক্ষমতা ছাড়ার পথ তাকেই ঠিক করতে হবে-‘হেলিকপ্টারে পালিয়ে যাবেন নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন।’

লংমার্চের পক্ষে দেশজুড়ে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে তা বন্ধ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সরকারকে সতর্ক করতেই ১১ দল লংমার্চে নেমেছে। তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও গণসম্পৃক্ত হবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, তারা কোনো ক্ষমতার লোভে নয়, দেশকে সঠিক পথে আনার জন্য আন্দোলন করছেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে। এ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, লংমার্চের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারসংকট সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

সরকারের প্রতি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, আট দফা দাবি প্রয়োজনে নয় বা ১০ দফায় রূপ নিতে পারে, এমনকি এক সময় তা এক দফায়ও পরিণত হতে পারে।

‘এক দফায় যখন পরিণত হবে, তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে,’ বলেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ আট দফা দাবিতে আজ শনিবার সকালে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সকাল ৭টায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার পর গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

আট দফায় তিস্তা

গতকাল মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরওয়ার জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি লংমার্চের কর্মসূচিতে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে ঢাকা-রংপুর লংমার্চটি আট দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করে ১১ দলীয় ঐক্য। ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে চার বিভাগীয় শহরে লংমার্চ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকা-সিলেট লংমার্চটি রেলপথে হবে।

ঢাকায় ১৪ নভেম্বর মহাসমাবেশ করারও কর্মসূচি রয়েছে ১১ দলের।

ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পাঁচটি পথ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]