ঢাকা: দেশের বৃহৎ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলামকে (সজীব) আটক করেছে পুলিশ। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে আজ রোববার তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে আনে। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একটি বড় শিল্প গ্রুপের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন খাইরুল। টাকা না দেওয়ায় গাড়ি আটকে রাখা হয়। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে গাড়ি ছেড়ে দেন খাইরুল। তার বাবা আজহারুল ইসলাম সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য।
স্থানীয় পুলিশ ও একাধিক শিল্পকারখানার সূত্র বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিতেন খাইরুল ইসলাম। চাহিদামতো টাকা না পেলে কারখানার পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া খাইরুলের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য বাবার প্রভাব খাটিয়ে এসব এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল, ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
আজ ডিবি আটক করার পর জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খাইরুলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে দুপুরে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় খাইরুলকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। পরে তাকে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে বিকেল ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয় সজীবকে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যুবদল নেতা সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়েছি আমরা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আমাদের সঙ্গে আসার জন্য সহযোগিতা কামনা করি। তিনি আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। তাকে আমরা এসপি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।”
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক ঘণ্টারও বেশি জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। সজীবকে তারা ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানান তারেক আল মেহেদী।
তবে, চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা তাকে এনেছিলাম। বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে পারছি না।”
পালাবদল/এসএ