
খায়রুল হক। ফাইল ছবি
ঢাকা: নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জমা পড়ায় আটকে গেল সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তির প্রক্রিয়া।
জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্র মো. আরিফ নিহতের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনটি করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আগামী ৩০ মার্চ আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রেখেছেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মহিন উদ্দিন এতথ্য দিয়েছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা পাঁচ মামলায় জামিন পান কারাগারে থাকা খায়রুল হক। জামিন হওয়ার পর তার আইনজীবী জানিয়েছিলেন, সাবেক এ প্রধান বিচারপতির কারামুক্তিতে বাধা নেই।
এর মধ্যে নতুন করে যে মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হলো, সেটি ২০২৪ সালের ২৫ অগাস্ট করা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৩ জনকে আসামি করেছেন আরিফের বাবা মো. ইউসুফ।
মামলায় বলা হয়, ১৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজারের রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে মৃত্যু হয় আরিফের।
আগের পাঁচ মামলার একটি জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যার অভিযোগে করা। বাকি মামলাগুলো করা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে।
এই পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাই কোর্টে আলাদা জামিন আবেদন করেন খায়রুল হক।
এই পাঁচ মামলায় জামিন আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৬ অক্টোবর হাই কোর্ট জামিন প্রশ্নে রুল দেয়। এর মধ্য দিয়ে খায়রুল হকের পাঁচটি মামলায় জামিন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
পালাবদল/এসএ