শনিবার ৬ জুন ২০২৬ ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার ৬ জুন ২০২৬
 
বিদেশ
ইরান ‘শক্তিশালী, একইসঙ্গে অহংকারী’ বলে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করছে না: ট্রাম্প





পালাবদল ডেস্ক
Saturday, 6 June, 2026
9:20 PM
 @palabadalnet

  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতারা অত্যন্ত ‘শক্তিশালী’ ও ‘অহংকারী’। এ কারণেই চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা এখনো সম্মত হয়নি। তবে ট্রাম্প বলেছেন, শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে আসা ছাড়া ইরানের সামনে ‘কোনো বিকল্প নেই’।

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের চিপেওয়া ফলসে গতকাল শুক্রবার দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে এ কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা শক্তিশালী, তারা অহংকারী। এমন কিছু বিষয় আছে, যা তারা কখনো করবে বলে ভাবেনি। কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতেই হবে। তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই, তবে এতে কিছুটা সময় লাগছে।”

চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতারা যখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এ মন্তব্য সামনে এলো। গত সপ্তাহে এ যুদ্ধ চতুর্থ মাসে গড়িয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলে দুই দেশ একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যারা এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তি করার জন্য তাকে তাগিদ দিচ্ছেন, তাদের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, “এসব বিষয়ে (চুক্তি করতে) বছরের পর বছর লেগে যায়।”

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময়কে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি অত্যন্ত দ্রুত এগোচ্ছি। আমি শুধু তিন মাসে পা দিয়েছি। আপনারা জানেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯ বছর স্থায়ী হয়েছিল। আর আমি আমার তৃতীয় মাসে আছি, অথচ সবাই শুধু বলছে, ‘আচ্ছা, আপনি কবে জিতবেন?’ আমি যদি ডেমোক্র্যাট হতাম, তবে কেউ এভাবে কথা বলতেন না। কিন্তু এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না। আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে’। তবে তিনি বলেন, ইরানের কাছে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়ে গেছে।

ট্রাম্প বলেন, “তাদের বেশির ভাগ ড্রোন তৈরির কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (লঞ্চিং প্যাড) ধ্বংস করা হয়েছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এলাকাগুলোও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের এখনো কিছু সক্ষমতা আছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। আমি বলব, শতকরা হিসাবে তাদের হয়তো ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বাকি আছে। এটিও অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, তবে আমরা যখন প্রথম হামলা চালিয়েছিলাম-তার তুলনায় এটি কিছুই না।”

চুক্তি না হলে ‘অন্য পথ’ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারি

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরে উপর্যুপরি হামলা চালিয়ে ইরান দেখিয়েছে যে তাদের এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা কতটা। এমনকি তারা কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরেই ইরানের কড়া সমালোচক। তিনি এবং তার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। মূলত ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শ্রম দিবসের পরও বহাল থাকার আশঙ্কা কম।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর ট্রাম্প এই অবরোধ আরোপ করেছিলেন। নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টে তিনি এ কথা বলেন।

ওই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানোর আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে একটি চূড়ান্ত ‘সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। ট্রাম্প প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমরা কি একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করব, নাকি অন্য পথে হাঁটব? আর সেই অন্য পথটি কিন্তু মোটেও ভালো কিছু হবে না।”

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের আইনপ্রণেতাদের গত বুধবার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত সামরিক অভিযানটি ‘শেষ হয়েছে’।

রুবিও আরও বলেন, সপ্তাহের শুরুর দিকে চালানো হামলাগুলো ছিল মূলত ‘আত্মরক্ষামূলক’। কংগ্রেস সদস্যদের তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির কাছে বিভিন্ন জাহাজে ইরানের হামলার জবাবেই এ পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

রুবিও বলেন, “আমাদের নিজেদের বাহিনীকে রক্ষা করার জন্য আমরা শুধু ড্রোনগুলোর ওপরই হামলা চালাই না, বরং যারা ওই ড্রোন উৎক্ষেপণ করে, তাদের ওপরও আঘাত হানি। এগুলো পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। তবে তা চালানো হয়েছে ইরানের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায়।”

চলমান এই সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগেই ইরান তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। ফলে মার্কিনদের ওপর তৈরি হওয়া এ অর্থনৈতিক চাপ কমাতে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

পালাবদল/এসএ


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]