বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
 
স্পোর্টস
চোখের জলে মেসিকে বিদায় জানালেন সতীর্থ-সমর্থকেরা





স্পোর্টস ডেস্ক
Wednesday, 7 October, 2026
10:05 PM
 @palabadalnet

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

একজনের বিদায়, অথচ আবেগটা যেন গোটা ফুটবল বিশ্বের। কেউ চোখের জলে, কেউ স্মৃতিচারণায়, কেউবা ভালোবাসায়, আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে শেষবারের মতো বিদায় জানাচ্ছেন সতীর্থ থেকে শুরু করে অগণিত সমর্থক।

মঙ্গলবার বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের বাইরে যেমন ভক্তদের ঢল, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক আবেগঘন বার্তায় মেসিকে স্মরণ করেছেন তার বর্তমান ও সাবেক সতীর্থরা।

মেসির সাবেক বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই সতীর্থ এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু নেইমারও জানালেন, ফুটবলকে যা দিয়েছেন, তার জন্য শুধু আর্জেন্টিনা নয়, গোটা বিশ্বেরই মেসির কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

আর্জেন্টিনার হয়ে বেনিনের বিপক্ষে নিজের ২০৮তম ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামার কয়েক ঘণ্টা আগে ইনস্টাগ্রামে নেইমার লিখেছেন, “শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য গোটা বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানায়।”

মেসিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “তুমি আমাকে ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শিখিয়েছ। তোমার বিপক্ষে খেলতে পারা আমার জন্য সম্মানের ছিল, আর তোমার সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারা ছিল আরও বড় কিছু।”

মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো দে পল, যিনি ইন্টার মায়ামিতেও তার সঙ্গে খেলেন, মনে করেন মেসির প্রভাব শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদায়ী বার্তায় তিনি বলেন, “সে শুধু একজন ফুটবলার হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও আমাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। আমি আরও ভালো মানুষ, ভালো মানব, ভালো অ্যাথলেট, ভালো বাবা এবং ভালো বন্ধু হয়েছি।”

মেসির প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে দে পল আরও বলেন, “আমি তাকে বলতে চাই, আমি তাকে ভালোবাসি। সে জানে, সে আমার ভাইয়ের মতো এবং তার হৃদয়টা বিশাল।”

সাবেক আর্জেন্টিনা সতীর্থ আনহেল দি মারিয়ার কণ্ঠেও ছিল একই আবেগ। এমন একটি দিন কেউই দেখতে চাননি জানিয়ে তিনি বলেন, “তাকে এতটা সুখী দেখা, আর এটা জানা যে সে নিজের সবটুকু দিয়ে দিয়েছে, এটাই আমাদের সবাইকে আনন্দ দেয়। সবার জন্য দিনটি খুব বিশেষ হতে যাচ্ছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।”

মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের সাক্ষী হতে বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছেন হাজারো সমর্থক। তাদের চোখেমুখে যেমন ছিল প্রিয় তারকাকে শেষবার দেখার আনন্দ, তেমনি ছিল বিদায়ের বিষণ্নতা।

১৯ বছর বয়সী হোসে গারাসেদো বলেন, “আমি কেঁদেছি। কারণ মেসির শেষ ম্যাচে এসে তাকে দেখতে পারছি, আবার একই সঙ্গে এটাও ভাবছি যে এরপর থেকে তাকে আর এখানে দেখা যাবে না।”

মেসির লড়াই আর আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করেন তিনি, “এই জার্সির জন্য সে লড়াই করেছে, তার কাছে যা কিছু চাওয়া হয়েছে, সবই দিয়েছে। সে জানত কীভাবে নিজের পথে অটল থাকতে হয়, কীভাবে উপভোগ করতে হয় এবং কীভাবে বারবার বলতে হয় যে সে লড়াই করে যাবে।”

২৭ বছর বয়সী মেডিকেল শিক্ষার্থী ইসাইয়াস জেনাসের কাছে মেসির গুরুত্ব ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা যে শেষ আনন্দগুলো পেয়েছি, তার অনেকটাই তার কাছে ঋণী। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যখন কঠিন, মানুষ যখন সংগ্রাম করছে, তখন ফুটবলই তাদের আশ্রয়। সে আমাদের যে কাপগুলো এনে দিয়েছে, সেসবের জন্য এই মুহূর্তে এখানে এসে তাকে বিদায় না জানিয়ে কি থাকা যায়?“

বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা জেতানো মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায়ী ম্যাচে নামছেন জাতীয় দলের রেকর্ড ১২৫ গোল ও ৬৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে। দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তার নিজের কথাও যেন পুরো গল্পটাকে এক বাক্যে শেষ করে দেয়, “আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি আমার সবটুকু দিয়েছি।”

পালাবদল/এসএ 


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]