
আজমেরী হক বাঁধন। ফাইল ছবি
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতীয় সংসদকে তিনি জানিয়েছেন, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাঁধন পুলিশের কাছে ও দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন। দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী ও এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা। হামলার ঘটনা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পার্কে হাঁটার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা কাপুরুষোচিত হামলা চালান। তিনি আজ সকালে পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন, উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং বাঁধনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজ বিকেলে তিনি বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।
প্রতিমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, অভিনেত্রী বাঁধন পুলিশের কাছে ও দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন। বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের দিন। কারণ, আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশের কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি এখন সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর কোনো দেশের দাসত্ব বা গোলামি করবে না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
পালাবদল/এসএ