শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 
জাতীয়
র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল, সংসদে তর্ক-বিতর্ক





নিজস্ব প্রতিবেদক
Thursday, 3 September, 2026
11:22 PM
 @palabadalnet

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন এলিট ফোর্স স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের জন্য জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‌্যাব ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬-ও উত্থাপন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে বিলটি চার দিনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ ও দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ, বিশেষায়িত ও জবাবদিহিমূলক ইউনিট থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার জন্যও এটি প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, র‌্যাবের সব জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত, দায়, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার এবং নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ও আদালতের কার্যক্রমসংক্রান্ত ২০০৫ সালের বিদ্যমান বিধিমালা কার্যকর থাকবে।

বিল অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক করা হবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিলটি উত্থাপন করলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি এসআরবি নামে নতুন এলিট ফোর্স গঠনের আগে সংসদে বিশদ আলোচনার দাবি জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই আহ্বান জানান। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বিতর্ক হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন সেলের কারণে র‌্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিএনপিও এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, র‌্যাব ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এটি বিলুপ্ত করা উচিত। যদি একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়, তাহলে আগে সংসদে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে।

জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তখন উপদেষ্টা পরিষদে তিনি যদি এই প্রস্তাব দিতেন, তাহলে খুশি হতাম। কিন্তু ১৮ মাসে তার এ কথা মনে হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর। এ কারণে কি আমরা পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব?

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আমরা র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করি।

তিনি বলেন, এটি বিলুপ্ত করা উচিত। নতুন কোনো সংস্থা গঠনের বিষয়ে আরও চিন্তা-ভাবনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা যে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করছি, সেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে... কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত হলে এখন তদন্ত ও বিচারের জন্য একটি সংস্থা থাকবে, যা আগে ছিল না।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর বিলটি চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর অধীনে এপিবিএন গঠন ও পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত বিলে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বিলে এপিবিএন সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই ইউনিটের কোনো সদস্য কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না বা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তবে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো বা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্বার্থে তারা পেশাজীবী সমিতি বা সংগঠনে যোগ দিতে পারবেন।

উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া এই ইউনিটের কোনো সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করতে, প্রকাশে সহায়তা করতে বা প্রকাশের ব্যবস্থা করতে পারবেন না।

পালাবদল/এসএস


  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  
  এই বিভাগের আরো খবর  


Copyright © 2025
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক : জিয়াউর রহমান নাজিম
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]