
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
তার প্রথম মেয়াদে জুড়েছিল। ছাঁটাই হলো দ্বিতীয় মেয়াদ। মার্কিন সেনার ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড থেকে এ বার ‘ইন্দো’ শব্দটি ছেঁটে দিল পেন্টাগন। আর তার ফলে প্রশ্ন উঠে গেল চীনকে চাপে রাখার লক্ষ্যে ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্যোগে গড়া ‘কোয়াড’-এর (চতুর্দেশীয় অক্ষ) ভবিষ্যৎ নিয়ে। আর ভারত কোয়াড নিয়ে যে ধরনের অহংয়ের মধ্যে ছিল তা হতাশায় পরিণত হয়েছে। আমেরিকার কাছে মোদির গুরুত্ব যে কমে গেছে সেটিই এতে স্পষ্ট হলো।
সার্বভৌম, শক্তিশালী ও উন্নত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ‘প্যাসিফিক কমান্ডে’র নাম বদলে করা হয়েছিল ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’। তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিন ম্যাটিস সে সময়ে জানিয়েছিলেন, ভারত মহাসাগরের গুরুত্ব ও ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে স্বীকৃতি দিতেই ‘প্যাসিফিক কমান্ডে’র নামের আগে ‘ইন্দো’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বছরে বর্তমান মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ছেঁটে দিলেন ‘ইন্দো’ শব্দটি।
পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় রাজনীতিতে। কংগ্রেস সাংসদ শশী তরুরের প্রশ্ন-“এই সিদ্ধান্ত কি কোয়াড-এর কফিনে আরেকটি পেরেক?” প্রসঙ্গত, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের আধিপত্য রুখতে আমেরিকার নেতৃত্বেই ২০০৭ সালে ‘কোয়াড’ (কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ) গঠিত হয়েছিল। ওই সামরিক জোটের সদস্য ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপান। কিন্তু ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হঠাৎই কোয়াড-এর প্রতি উৎসাহ হারিয়েছে ওয়াশিংটন। পরিবর্তে দক্ষিণ চিন সাগরে ‘পাখির চোখ’ করে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপিন্সকে নিয়ে নতুন সামরিক অক্ষ ‘স্কোয়াড’ গড়েছে আমেরিকা।
দক্ষিণ চীন সাগরের দখলদারি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলির সঙ্গে চীনের বিরোধ রয়েছে। কূটনীতি ও সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এবার সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে সক্রিয় হয়েছেন ট্রাম্প। আর সে কারণেই ভারত গুরুত্ব হারিয়েছে।
পালাবদল/এসএ