
মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার। ছবি: সেন্টকম
হরমুজ প্রণালির কাছে সোমবার একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে এতে থাকা দুই ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে, নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে-তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলছে।
এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও প্রশমনের পালাবদল দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা চালানোর পর কিছুটা পিছু হটেছে, যা যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর অবস্থার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সোমবার রাতে নিউইয়র্ক টাইমস হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। একইভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত বাণিজ্যিক নৌ চলাচল-সংক্রান্ত বাধা মোকাবিলায় সেন্টকম দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, সশস্ত্র এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং এফ/এ-১৮ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আসছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে ইরান প্রায় ৩০টি রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া, শত্রুপক্ষ ও নিজেদের বাহিনীর গুলিতে কয়েকটি যুদ্ধবিমানও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চলমান সংঘাতে এটিই প্রথম অ্যাপাচি হেলিকপ্টার হারানোর ঘটনা হতে পারে।
গত মাসে সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে কমান্ডপ্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে হরমুজ প্রণালির আশপাশের আকাশে উড়তে দেখা যায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি স্বল্পস্থায়ী অভিযানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছিল।
হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার হিসেবে পরিচিত। ছোট নৌযানের হামলা প্রতিরোধ এবং ড্রোন ভূপাতিত করার উদ্দেশ্যে এগুলো নিয়মিতভাবে ওই কৌশলগত জলপথে টহল দেয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব হেলিকপ্টার ইরানের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপসহ দেশটির ভূখণ্ডের আরও কাছাকাছি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে অনিয়মিত আলোচনা চললেও সেন্টকম তার আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রেখেছে।
ইরানের অবরোধের জবাবে গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা অবরোধ আরোপ করে। এর আওতায় ইরানি বন্দরে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের প্রবেশ বা প্রস্থান নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর থেকে মার্কিন সামরিক জাহাজ ১৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন সতর্কতা উপেক্ষা করে অগ্রসর হওয়া আরও সাতটি জাহাজকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ওমান উপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে ইরানের দিকে যাত্রারত পালাউয়ের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারও ছিল।
এর আগে, এপ্রিল মাসে ইরানের গুলিতে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের দুই ক্রু সদস্য ইজেক্ট করার পর রুদ্ধশ্বাস অভিযানে তাদের উদ্ধার করে মার্কিন বাহিনী।
পালাবদল/এসএ