বিদেশ
চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিতেও টক্কর দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিতেও টক্কর দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র





পালাবদল ডেস্ক
Thursday, Jun 10, 2021, 3:27 pm
 @palabadalnet

ওয়াশিংটন: চীনা প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলটির পক্ষে সিনেটে মঙ্গলবার ভোট পড়ে ৬৮টি। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩২টি। চীনবিরোধী এ বিলের প্রতিক্রিয়ায় তাদের কাল্পনিক মার্কিন শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার আপত্তি জানিয়েছে চীন।

চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার এই বিল পাস হওয়া নিয়ে বিভক্ত কংগ্রেসে দ্বিমত পোষণকারীর সংখ্যা খুবই কম। বিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও গবেষণা খাত শক্তিশালী করতে ১৯০ বিলিয়ন ডলার রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর এবং টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরি ও গবেষণায় খরচের জন্য আরও ৫৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও রয়েছে। এর মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলার শুধু গাড়ির চিপে বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে।

চীনের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে এ বিলের জন্য তীব্র ক্ষোভ ও বিরোধিতার কথা বলা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ বিলে ‘একমাত্র জয়ী হওয়ার প্রত্যাশার বিভ্রান্তি’ ফুটে উঠেছে। এটি উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনকে কাল্পনিক শত্রু হিসেবে দেখার তীব্র আপত্তি জানাই।’

বিলটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে যাওয়ার আগে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে হবে। এরপর জো বাইডেন সই করলে তা আইনে পরিণত হবে। তবে এ বিল কবে প্রতিনিধি পরিষদে উঠবে, তা নিশ্চত হওয়া যায়নি। এই বিলে চীনবিরোধী আরও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিলে সরকারি ডিভাইসগুলোতে টিকটক অ্যাপ ডাউনলোড নিষিদ্ধ করা, চীন সরকারের মদদপুষ্ট কোম্পানিগুলোর বানানো ড্রোন না কেনার কথা বলা হয়েছে।

বিলটির প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘একবিংশ শতাব্দী জয়ের প্রতিযোগিতায় রয়েছি আমরা। প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। এমন সময়ে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কোনোভাবেই নিতে পারি না। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রেমন্ডো বলেছেন, নতুন তহবিল জোগানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ থেকে ১০টি নতুন সেমিকন্ডাক্টর কারখানা তৈরি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা পেয়েছে বিলটি।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক সবচেয়ে তলানিতে নেমেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। জো বাইডেনও দৃশ্যত ট্রাম্পের পথেই হাঁটছেন। বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুদিন আগে প্রথমবারের মতো আলাস্কায় দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের একটি বৈঠকও হয়েছে। তবে নতুন মার্কিন প্রশাসন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা ওই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়নি।

ওই বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছু ‘প্রতিকূলতা’ আছে; একই সঙ্গে কিছু ‘সহযোগিতামূলক দিকও’ আছে।

পালাবদল/এমএ


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]