সারাবাংলা
শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর মালিকপক্ষের হামলা, আহত ১২ জন হাসপাতালে
শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর মালিকপক্ষের হামলা, আহত ১২ জন হাসপাতালে





রাজশাহী ব্যুরো
Friday, Nov 27, 2020, 10:46 pm
Update: 27.11.2020, 10:51:52 pm
 @palabadalnet

রাজশাহী: রাজশাহীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের ওপরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নগরের চন্দ্রিমা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আহত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রীদের হাসপাতালের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ও ছাত্রদের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। 

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা-২০১১ (সংশোধিত) প্রতিপালন না করায় রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে ২০২০-২০২১ শিক্ষা বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২ নভেম্বর স্বাক্ষরিত মন্ত্রণালয়ের এ–সংক্রান্ত এক চিঠিতে এই মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানো হয়। ওই চিঠি ৬ নভেম্বর মেডিকেল কলেজে এসে পৌঁছায়। চিঠিতে কলেজে শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অন্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মাইগ্রেশন (স্থানান্তর) করার ব্যবস্থা করার জন্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিয়েছে।  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সরকারি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

৮ নভেম্বর এক সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হয়েছেন। তাদের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়েছিল। সার্টিফিকেট বিক্রির কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যেন আর না গড়ে ওঠে। প্রতারণার কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ওই দিনই কলেজটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাল্টা সমাবেশ করে বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। কর্তৃপক্ষও তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে বলে, কলেজ বন্ধ হয়ে গেলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন। তাই যেন কলেজটি চালু রাখার ব্যবস্থা করে সরকার।

আজ হামলার শিকার হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা জানান, আগামীকাল শনিবার মন্ত্রণালয় থেকে কলেজ পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজে কী হচ্ছে, তা খোঁজ নিতে তারা কলেজে এসেছিলেন। আর কিছু ছাত্রী তাদের জামাকাপড় নিতে হোস্টেলে ঢুকেছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামানসহ কর্মচারীরা বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পিটিয়ে আহত করেন। হামলাকারীরা ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিও করেছেন। তাদের মারধরে ছাত্রীদের জামাকাপড় ছিঁড়ে গেছে। ছবি তুলতে গেলে তাদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। মারধর করে তাদের মেডিকেল কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ট্রলিতে করে একজন ছাত্রকে ভেতরে নেওয়া হচ্ছে। তার পা দিয়ে রক্ত ঝরছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পায়ে জখম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে ধারণ করা ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মারধরের সময় চিৎকার করে ছাত্রীরা ছোটাছুটি করছেন। একই ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি দিয়ে এক ব্যক্তি ছাত্রীদের বেধড়ক পেটাচ্ছেন।

সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরের চন্দ্রিমা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ব্রজগোপাল জানান, ঘটনার খবর শুনে তারা পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন শিক্ষার্থীরা চলে গেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রীরা তাদের হোস্টেলে জামাকাপড় নিতে এসেছিলেন। তিনি শুনেছেন এটা নিয়ে সেখানে একটা গন্ডগোল হয়েছে। এ ব্যাপারে দুজন শিক্ষার্থী থানায় অভিযোগ করতে এসেছেন। তাদের অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, শনিবার মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন হবে। সেই জন্য তিনি অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসে কাগজপত্র ঠিক করছিলেন। এমন সময় বাইরে হইচই শুনে তিনি এগিয়ে যান। তিনি দেখেন কিছু শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে কর্মচারীরা তাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তিনি পুলিশে খবর দিলে পুলিশ শিক্ষার্থীদের বের করে দেন।

পালাবদল/এসএস


  এই বিভাগের আরো খবর  
  সর্বশেষ খবর  
  সবচেয়ে বেশি পঠিত  


Copyright © 2020
All rights reserved
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]
সম্পাদক : সরদার ফরিদ আহমদ
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭
ফোন : +৮৮-০১৮৫২-০২১৫৩২, ই-মেইল : [email protected]